৬২ তলা উচু ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: নেটিজেনদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। তার ভয়ংকর সাহসী ছবিগুলি মাতিয়ে রাখে নেটদুনিয়াকে। মনে শিহরণ জাগায়। অনেকে আবার তার পথ অনুসরণের কথাও ভাবেন।

সাবধান! জেনে রাখুন, এই স্টান্টই প্রাণ কেড়ে নিল চিনের ইউ ইয়ংনিনের। ৬২ তলা উচুঁ বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল তার। আর সেই মৃত্যুর ছবিও ক্যামেরাবন্দি হয়ে রইল।

‘প্রথম চিনা রুফটপার’ হিসেবে সোশ্যাল সাইটে বিখ্যাত এই স্টান্টম্যান জীবীত অবস্থায় নেটিজেনদের রোমহর্ষক কিছু ছবি উপহার দিয়েছিলেন। কখনও বহুতলের কার্নিশে দাঁড়িয়ে সেলফি তো কখনও আকাশছোঁয়া উচ্চতা থেকে প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায় ছবি তুলে পোস্ট করতেন।

এমনই প্রায় ৩০০টি ভিডিও এবং লাইভ স্ট্রিমিং নেটদুনিয়ায় দারুণ জনপ্রিয়। নেটদুনিয়ায় বিখ্যাত হয়ে ওঠার পর শখকেই পেশায় পরিণত করেছিলেন ইউ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শখের পেশাই প্রাণ কেড়ে নিল ২৬ বছরের ইউর। একটি স্টান্টের জন্য চাংশার হুয়াউয়ান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের ৬২ তলায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ইউ।

যে বিল্ডিংয়ে সাধারণরা ৪২ তলার উপর ওঠার অনুমতি পান না। জানা গিয়েছে, স্টান্টটির জন্য বাংলাদেশি মুদ্রায় নয় লক্ষ টাকারও বেশি পেতেন তিনি। কিন্তু স্টান্ট শুরুর আগেই ঘটে সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা। পুল-আপ করার সময় হাত ফসকে পড়ে যান ৪৫ ফুট নিচের একটি টেরিসে। ওই বিল্ডিংয়ের উলটো দিকে আরেকটি বিল্ডিং থেকে ইউর পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ভিডিও করেন এক ব্যক্তি।

এমন মৃত্যুকে অকস্মাৎ দুর্ঘটনা বলেই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এ মাসে নয়। গত নভেম্বরের ৮ তারিখেই ঘটেছে এই ঘটনা। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আসে ঠিক এক মাস পর। ইউর অনুসারীরা বেশ কয়েকদিন ধরে তার স্টান্টের কোনও নতুন ছবি না দেখতে পাওয়ায় উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। তারপরই খোঁজ পড়ে তার।

অবশেষে ৮ ডিসেম্বর ইউর মৃত্যুর খবর পান ভক্তরা। একটি সংবাদমাধ্যমকে ইউর গার্লফ্রেন্ড জিনজিন জানান, এই স্টান্টটির পরই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ছিল ইউর। স্টান্ট থেকে উপার্জিত অর্থে বান্ধবীকে একটি স্পেশ্যাল উপহারও দেবেন বলে নাকি ঠিক করেছিলেন স্টান্টম্যান। কিন্তু এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় সব স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে গেল। রুফটপারের মৃত্যুতে শোকাহত তার ভক্তরা। (মৃত্যুর ভিডিও দেখুন এখানে ক্লিক করে)

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *