সিলেটের নর্থ-ইস্ট হাসপাতালের ডা. আফজাল’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: প্রফেসর ডা.মো. আফজাল মিয়া। সার্টিফিকেট যোগ্যতায় প্রফেসর না হলেও দিব্যি নামের আগে প্রফেসর যুক্ত করেই ঠিকে আছেন তিনি। তিনি দক্ষিণ সুরমার একটি বৃহৎ প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

এফসিপিএস এবং এমডি (মেডিসিন) ডিগ্রি না নিয়েই যথারীতি প্রফেসর পদবীর ব্যবহার করছেন যথেচ্ছ। পাশাপাশি তিনি মেডিসিন বিভাগেরও প্রধান। প্রশিক্ষণ রয়েছে ট্রপিক্যাল মেডিসিনের উপর।

যা, মেডিসিন বিভাগের ক্ষুদ্র একটি অংশ এবং ভলেন্টারী কার্যক্রমের অংশ বিশেষ। অথচ, মেডিসিন বিভাগের মতো একটি বিশালাকার বিভাগের প্রধান হিসেবেই নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বিস্তর অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান ডা. মো. আফজাল মিয়ার স্বেচ্চাচারিতার। যখন-তখন যে কাউকেই শোকজ বিহীন চাকোরীচ্যুতিতেও তিনি সিদ্ধহস্থ। ইন্টার্নী ডাক্তারদের সাথে দুর্ব্যবহার নিত্যনৈমিত্তিক অভিযোগের একটি অংশ। সম্প্রতি মাসিক বকেয়া বেতন প্রাপ্তির দাবি এবং দুর্ভোগের শিকার হওয়া ইন্টার্নি ডাক্তার এবং শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করে।

মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালনকালে তাদের দাবি ছিলো- হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. আফজাল মিয়া’র রুঢ় আচরণ বন্ধ সহ মাসের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বেতন-ভাতা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান। অভিযোগ রয়েছে- রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্বেচ্চাচারিতার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন যথারীতি।

অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি থাকলেও অনিয়মকেই নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্টা করেন ডা. আফজাল। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। এই বয়সে একাডেমিক দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন যথারীতি। অবশ্য, ডা. আফজাল বলেছেন, বর্তমানে ডা. গৌতম বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানান, ৪ বছর আগেই তিনি মেডিসিন বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের চেয়ারম্যান হিসেবে সব বিভাগের খোঁজ-খবর নেওয়াটাও চেয়ারম্যানের দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে। সে হিসেবে যে কোন বিভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চেয়ানম্যানকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজে রয়েছে ভূয়া পদবীধারী আরো কয়েকজন ডাক্তার।

এর মধ্যে ডা. নিজাম জাহিদ চলে গেছেন অনেক আগেই, জানালেন চেয়ারম্যান ডা. মো. আফজাল। তবে, ডা. আজিজুর রহমান রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিষয়টি স্বীকার করেও নিয়েছেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান। নাসির্ং কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিয়ে রোগীদের সেবা প্রদান করার কাজে জড়িত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতির যথেষ্ট অপ্রতুলতা। আর যন্ত্রপাতি স্বল্পতায় অনেক সময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের হাতেও রোগীদের মারা যাওয়ায় ঘটনাও ঘটেছে এই হাসপাতালে। এ পর্যন্ত চেয়ারম্যানের রোষানলের শিকার হয়ে চাকোরীচ্যুত হয়েছেন প্রায় দেড় ডজন ডাক্তার। মোবাইলে রেকর্ডকৃত বক্তব্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাকোরীচ্যুত ডাক্তারদের অভিযোগ-চেয়ারম্যান সাহেবের অশ্লীল এবং অশ্রাব্য বাক্য ব্যবহারের কাছে আমরা নিতান্তই অসহায়।

তাদের খেদোক্তি-পেশা হিসেবে ডাক্তারীকে বেছে নিয়েছি, সেবা প্রদান এবং সম্মানজনক পেশায় নিজেদের সম্পৃক্ত করবো বলে। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেবের অশ্লীল বাক্য বর্ষণ নিজেদের জন্য মানহানিকর ভেবে নিজেরাই “লাভ লেটার” ধরিয়ে দিয়ে পদত্যাগ করি। আবার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক ডাক্তারকে চেয়ারম্যান সাহেব নিজেও ‘লাভ লেটার’ ধরিয়ে দিয়েছেন।

এফসিপিএস ডিগ্রি না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে ডা. মো. আফজাল বলেন, ‘আগে এই পদ-পদবী ব্যবহার করলেও বর্তমানে এই পদবী ব্যবহার করিনা’। এফসিপিএস এবং এমডি ডিগ্রি না থেকেও প্রফেসর পদবীর ব্যবহার ও মেডিসিন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করা যায় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো আগেই বলেছি, বর্তমানে এই পদ ব্যবহার করিনা”।

সম্প্রতি ইন্টার্নী ডাক্তার, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে কর্মরত সকল ডাক্তারদের মানববন্ধন ও কর্মবিরতি বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,“স্টাফদের সাথে কর্মবিরতিদের দুর্ব্যবহার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনটি ঘটেছিলো। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে, রুঢ় ব্যবহার কিংবা বেতন-ভাতার দাবির বিষয়টি সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডা.মো.আফজাল মিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নাদামপুর গ্রামে। ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি করতেন ছাত্র ইউনিয়ন। তারপর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ত্যাগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন পাওয়ার রাজনীতিতে। পর্যায়ক্রমে স্কাচিপ থেকে বর্তমানে বিএম’র ও সদস্য তিনি।

প্রাপ্ত সবকটি অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. মো. আফজাল মিয়া বলেন, যে বা যারা এই অভিযোগগুলো করেছে, তা সর্বাংশে সত্য নয়। বিষয়টিকে হীন ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি। রুঢ় ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্যিই বিভ্রান্তিমূলক। তিনি বলেন, ১৯৯৫ ইংরেজীতে নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে মরহুম স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর হাত ধরেই শুভ অভিষেক ঘটে হাসপাতালটির।

এর পর থেকেই এক এক করে হাসপাতালটির আরো প্রায় ৮ টি সহযোগি প্রতিষ্টান গড়ে উঠে। আর এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগের বিনিময়ে। বিষয়টি নিয়ে কথা হয়, জেলা সিভিল সার্জনের সাথে। তিনি জানান, একটা সময় ছিলো যখন ট্রপিকেল মেডিসিন বিষয় সহ আরো কিছু প্রশিক্ষণ হলেই কিছু প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে অধ্যাপনার সুযোগ দেওয়া হতো।

সেই সুযোগের ধারাবাহিকেঠায়ই অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। তিনি বলেন, একাডেমিক বিষয়ে কথা বলা ঠিক নয়। তবুও বলছি-“আমার জানামতে ডা. মো. আফজাল মিয়া ঐ হাসপাতালের একজন শেয়ার হোল্ডার”এবং বর্তমানে বৃহৎ এই হাসপাতালটির চেয়ারম্যানও বটে। সুত্র:- বিজয়ের কন্ঠ

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *