ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা ঐতিহ্যের ঢেঁকি

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ (ঠাকুরগাঁও): ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ঢেঁকি। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ব এগিয়ে চলেছে। আধুনিকতায় যান্ত্রিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও গৃহস্থলি সামগ্রি।

প্রগতি ও আধুনিকতার যুগে কর্মব্যস্থ মানুষের ব্যস্থতা যেমন বেড়েছে তেমনি যে কোন কাজ স্বল্প সময়ে স্বল্প শ্রমে দ্রুত সম্পন্ন করতে পারলেই মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচে বলে ধারণা জন্মেছে। ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা ও যানা যায়, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আধুনিকতার উৎকর্ষের দাপটের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এক সময়ের কৃষান কৃষাণীদের ভালো মানের চাল তৈরী করার প্রধান মাধ্যম কাঠের ঢেকি। গ্রামে গঞ্জে এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেকির ছন্দময় শব্দ।

ধান চাল আটা ও চিরা ভাঙ্গানোর জন্য বৈদুতিক মিল হওয়ার কারণে গ্রামীণ কৃষকরা সহজেই ধান, আটা ও চিরাকম সময়ে অল্প খরচে ভাঙ্গাতে পারছে। সদর ইউনিয়নের চামেশ্বরী গ্রামের জমিলা বেগম জানান, আমার শ্বশুর শ্বাশুরীর আমল থেকেই এই বাড়ীতে ঢেকি ছিল কিন্তু এখন তা বিলিন হয় গেছে। তিনি আরও জানান আমাদের পরিবারের সকলেই ঢেঁকিতে ধান ভাঙতো।

কিন্তু আজ আর সেই পতিচ্ছবি চোখে পড়েনা। ঢেকির গুন সম্পর্কে প্রবাদ বাক্য রয়েছে যে, ঢেকি স্বর্গে গেলেও নাকী ধান বানে। গ্রামীণ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাপ দাদার মাটির বাড়ী ঘরে বদলে ডিজাইন করে, ইটের বাড়ী ঘর তৈরী বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেকে বাড়ীতে ঢেকি রাখার জন্য জায়গা থাকছে না। তাই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেকি বিলুপ্তির কারণে হয়তো আর কারও চোখে পড়বে না বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *