সুশীল সমাজের একটু মানবিকতাই পারে নিলুফার হত্যা কারীকে আইনের হাতে তুলে দিতে

আবু সাঈদ সজল, হিজলা, (বরিশাল): আজ যদি আমি কারো বিপদে এগিয়ে আসি তাহলে নিশ্চিত  আমার বিপদেও কেউনা কেউ একদিন এগিয়ে আসবে। দুনিয়াটা ‘গিভ এ্যান্ড টেক’ এর উপর নির্ভরশীল। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক এটাই সত্যি।

মানুষ হয়ে জন্মেছি যদি কোন মানবিকতাই না থাকে তাহলে এ জন্মই বৃথা। ‘দয়া করে সবাই মানবিক হোন অপরাধীকে ধরিয়ে দিন’। এ এক বোনের  আতঙ্কিত ভাই বোন ও আব্বু আম্মুর আকুতি। এর মর্ম অনুধাবন করলে সমাজে নিলুফার মতো আর কোনো স্ত্রীকে স্বামীর হত্যার বলি হতে হবেনা।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিলুফাকে স্বামীর অত্যাচারে হত্যার শিকার হয়ে জীবন যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে। তিন সন্তানের জননী হত্যার শিকার হওয়ায় ইয়াতিম হলো তিনটি নতুন মুখ। অকালেই ঝড়ে পড়ে গেল এ নিলুফার হাসিমাখা মুখটি।

এ বছরের  ২৫ শে মে  গভীর রাতে  নিলুফাকে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে নেয় তার স্বামী। স্বামীকে বিশ্বাস করে সে তার সাথে পথচলা শুরু করে কে জানে এই চলা হবে তার জিবনের সর্বশেষ পদক্ষেপ।

জনমানবহীন বিলের ভিতর কিছুদূর যাওয়ার পর গলায় ফাঁস দিলে বাচার জন্য প্রানপণে হুমরি খেতে থাকে তথাপিও জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয় তারই নরপিশাচ স্বামী চুন্নু। সেই রাতেই পালিয়ে এখন ফেরারী জীবন যাপন করছে এ হত্যাকারী। অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে আজ দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই খুনি।

জানা যায় পরবর্তী ১ মাস পর আবার সেই খুনি এলাকায় এসে ভয়ংকর  বিষবাষ্প জ¦ালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কিন্তু দু:খের বিষয় কেউ এই খুনিকে আইনের হাতে তুলে দিতে এগিয়ে এলোনা। একটি মানুষেরও মনুষত্ববোধ জেগে উঠলনা। আমরা কোন সমাজে বাস করছি? হত্যার ৬ মাস পেড়িয়ে গেলেও খুনির দেখা মিলেও মিললনা।

সমাজে আমরা যদি আরেকটু মানবিক হই তাহলে প্রশাসনের আগেই আমরা এ হত্যাকারীকে আইনের হাতে তুলে দিতে পারি। কি লাভ এ সব কথা বলে চুন্নু স্ত্রীকে খুন করে পালালে ধ্বংস হলো একটি পরিবার মা হারা হলো কয়েকটি কচি মুখ। অশান্তিতে দিন পার করতে হচ্ছে অসহায় পিতামাতাকে। আজ যদি এ ঘটনা ক্রমান্বয়ে হতেই থাকে তাহলে দেশের নারী সমাজ নিরাপদ থাকবে তার গ্যারান্টি কি?

যার কারনে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ এ সমাজ উৎকন্ঠিত। তার সাথে নিলুফার বাবা মা ,ভাই বোনও আতঙ্কিত ঠিকভাবে ঘুমাতে পারে না তারা। কারন কখন ঐ খুনি এসে তাদের উপর হামলা করে বসে। তাই এ সংশয় তাদের পরিবারের ভিতর বিশাল ভাইরাসের মতো কাজ করছে। দিন দিন তার বয়স্ক  বাবা মার শরীর  চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ছে।  খুনিকে কেউ সনাক্ত করতে পারলে যোগাযোগ: ০১৭৮৬০৭২৯৭৭। এই ফিচারটি আমার গ্রামের বাড়ির ঘটনা ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *