জাবিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টা : ৩দিনে আটক ১৪জন

প্রিয়ংকেশ ভৌমিক, (জাবি প্রতিনিধি): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্বাতক সম্মান ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে সাক্ষাৎকারের ৩ দিনে ১৪ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

১২ই নভেম্বর (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রথমদিনে বিভিন্ন অনুষদ থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন বগুড়ার তহিদুল ইসলামের ছেলে মো. মাহবুব হোসেন, কুষ্টিয়ার মো. আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো. আশিকুল হাসান রবিন, ময়মনসিংহের আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. ইমাজামাম হোসাইন, ঢাকা কেরানীগঞ্জের হারেস মিয়ার ছেলে মো. অমিত হাসান। এদের মধ্যে মাহবুব ‘ই-ইউনিট’(বাণিজ্যিক অনুষদ) এ ৩য় স্থান অর্জন করেছিলেন। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নং-৫৩০৯৪২।

রবিন ‘এফ-ইউনিট’ (আইন অনুষদ) এর ১৬ তম (রোল নং-৬২৯৫৬৭) এবং একই অনুষদে ইমাম হোসাইন ৩য় (রোল নং-৬৩৭৩৪৪) স্থান অর্জন করেন। এছাড়া অভিযুক্ত অমিত আইআইটির ভর্তি পরীক্ষায় ১১ তম (রোল নং-৮১২৫৮৬) স্থান অর্জন করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাক্ষাৎকারের সময় স্বাক্ষর ও হাতের লেখা না মেলায় তাদের সন্দেহ করা হয়।

পরে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলে, নিজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়েছিল। এসময় অমিত ৬ লক্ষ টাকায় বিনিময়ে এক ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে বদলি পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া রবিন ৬ লক্ষ টাকা এবং মাহবুব হোসেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্যের মাধ্যমে বদলি পরীক্ষা দেওয়ানোর কথা স্বীকার করেন।

১৩ই নভেম্বর(সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাক্ষাৎকার গ্রহণের ২য়দিনে ৪ ভর্তিইচ্ছুসহ ৬ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকাল ৫ টায় আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃত ভর্তিইচ্ছু হলেন- আশরাফুজ্জামান, মাহমুদুর রশীদ সৌরভ , নাইমুর রহমান, নিশাদ আহমেদ।

ভর্তি পরীক্ষার সক্ষাৎকারের সময় হাতের লেখা ও স্বাক্ষর না মেলায় আটক করা হয় তাদেরকে। এছাড়া নিশাদ এর বড় ভাই নাইমুল সরকার ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের সাথে যোগ-সাজগের অভিযোগে আটক করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না পাওয়া গেলেও নাইমুল সরকারের সাথে থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রেজওয়ানকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

রেজওয়ান জয়পুরহাট ও নিলফামারী জেলায় ডিমের ব্যবসা করেন বলে জানা যায়। প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই ৪ ভর্তিইচ্ছু প্রক্সির মাধ্যমে চান্স পাওয়ার কথা স্বীকার করে। এদের মধ্যে আব্দুল কাশেমের ছেলে আশরাফুজ্জামান যশোরের এম এম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ‘সি’ ইউনিটে (রোল নং-৩৪২৪৭৩) প্রক্সির মাধ্যমে ১৭ তম হয়।

আরেক আটককৃত মাহমুদুর রশীদ সৌরভ গাজীপুরের হারুনুর রশীদের ছেলে। সে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। সেও ৫লাখ টাকার বিনিময় ‘ই-ইউনিটে’ (রোল-৫২৩২৫৩) প্রক্সির মাধ্যমে ১৫২ তম হন। এছাড়া নাইমুর রহমান নীলফামারি জেলার আশেকুর রহমানের ছেলে।

সে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। ২লাখ টাকা চুক্তিতে ‘ই-ইউনিটে’  রোল-৫২৬০৯৮) প্রক্সির মাধ্যমে ১২৭ তম হওয়ার কথা স্বীকার করে। একই জেলার মো. গেলাম মোস্তফা’র ছেলে নিশাদ আহমেদ ও মো. নাইমুল সরকার। নিশাদ আহমেদ ‘এফ-ইউনিটে’  রোল নং-৬৩২১৩৬) প্রক্সি সহায়তা নিয়ে ৪৭ তম অবস্থান করেন। ১৪ই নভেম্বর (মঙ্গলবার) আটককৃতরা হলেন-ময়মনসিংহের চরভিলা গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ইয়াসীন আরাফাত।

তিনি ‘সি ১’ ইউনিটে ৫ম স্থান লাভ করেন। গাজীপুরের শ্রীপুরের শেখ কামাল উদ্দীনের ছেলে শেখ পারভেজ আহমেদ। ‘সি’ ইউনিটে ১৫৫তম স্থান লাভ করেন। মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার আহমেদ আলীর ছেলে রাকিব হোসেন। ‘সি’ ইউনিটে ৫৮ তম স্থান লাভ করেন। এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন,  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *