সিলেট গোলাপগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ফি

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ (সিলেট): সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের বিরুদ্ধে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণে বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অন্যান্য খাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ফি। কোন কোন বিদ্যালয় কোন রশিদ ছাড়াই বাড়তি ফি আদায় করছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য সরকার ককর্তৃক নির্ধারিত ফি ১৩৭০ টাকা থেকে ১৫৫০ টাকা হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ফি ২৩ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক অভিভাবক।

জানা যায়, ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরনের ফি নির্ধারণ করে দেয় সরকার। বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৫৫০ টাকা, ব্যবসায় ও মানবিক বিভাগে ১৩৭০ টাকা ফি নির্ধারন করা হয়।। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয় এই ফি নির্ধারণ করে। পরে এই বিজ্ঞপ্তি ঘোষনা করে সিলেট শিক্ষা বোর্ড তাদের ওয়েবসাইটেও।

বিজ্ঞপ্তিতে কোন কোন খাতে কত টাকা ফি নেওয়া যাবে তাও উল্লেখ করা হয়। এতে প্রতি পত্রের পরীক্ষা ফি ৮০ টাকা,ব্যবহারিক ফি ৩০ টাকা, একাডেমী ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৪০ টাকা, সনদ ১০০ টাকা,বয় স্কাউট /গার্লস গাইড ফি ১৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা, বার্ষীক ক্রীড়া মঞ্জুরী ফি প্রতিষ্ঠান প্রতি ৩০০ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ২০, বি.এন.এন.সি ফি ৫ টাকা, অনলাইন ফি ৫ টাকা উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের নির্ধারিত ফি ব্যতিত কোন প্রকার ফি গ্রহণ করা যাবে না এবং বোর্ডের ফির সাথে অন্য কোন ফি আদায় করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এই নিয়িম না মেনেই বাড়তি ফি আদায় করছে উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়। কোচিং ফি, মডেল টেস্ট, বকেয়া বেতন, মিলাদের চাঁদাসহ নানা খাত দেখিয়ে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ফি।

ফলে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বাড়তি ফির ঘানিটানতে হচ্ছে অভিভাবকদের। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, বাড়তি ফি আদায়ের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পৌর শহরে অবস্থিত রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন রসিদ ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মানবিক বিভাগে ৩৮৬০ , বিজ্ঞান বিভাগে ৪০০০ টাকা।

রহিম আহমদ নামের একজন অভিভাবক রশিদ না দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রশিদ ও কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত চক্রবর্তী এ বিষয়ে রসিদ না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, একসাথে সকল শিক্ষার্থীকে রশিদ দেওয়া হবে। উপজেলার মীরগঞ্জ দ্বী-পাক্ষীক উচ্চ বিদ্যালয়েও ফি বেশি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিভাবক অনেকেই অভিযোগ করেন, কোন রশিদ না দিয়েই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ২৫৮৫ টাকা ও মানবিক বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ২৪৯৫ টাকা। মীরগঞ্জ দ্বী-পাক্ষীক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বকুল মিয়া জানান, বকেয়া বেতন, কোচিং ফি সহ ফরম পূরণে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

রশিদও দেওয়া হবে। মীরগঞ্জ দ্বী-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক আশিক আহমদ জানান, কোন রসিদ না দিয়েই বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে না জেনেই আমরা বাধ্য হয়ে এ ফি দিতে হচ্ছে। উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয়েও রশিদ ছাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ফি।

বিজ্ঞান বিভাগে ২৪৭০ টাকা ও মানবিক বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ২৩৭০ টাকা। আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুছ এ ব্যাপারে বলেন, এসএসসি ফরম পূরণে বোর্ড ফি কত তা মনে নেই। তবে বিবিধ, অনলাইন, কোচিং ফি সহ টাকা আদায় করা হচ্ছে। উপজেলার জামেয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে রসিদ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে ৩৪০০ টাকা।

বরায়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৪০০ টাকা, ব্যবসা ও মানবিক বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ৩৩১০ টাকা। বিএনকে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ৪০০০ টাকা ও মানবিক বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ৩৯০০ টাকা। এদিকে উপজেলাস্থ গোলাপগঞ্জ কোয়ালিটি স্কুলে ফরম পূরণে মানবিক বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ৪০০০ টাকা।

কোয়ালিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সফিক আহমদ এ বিষয়ে বলেন, অন্য বিদ্যালয়ের অধিনে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কারণে ফি একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অভিজিৎ কুমার পাল বলেন, উপজেলার কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে, সিলেটের সচিব কামাল আহমেদ মুঠোফোনে জানান, বোর্ড নির্ধারিত ফিতে ফরম পূরণ না করে যারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *