শিট-নোট প্রতারনার আরেক ফাঁদ!

প্রিয়ংকেশ ভৌমিক(জাবি প্রতিনিধি): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) স্নাতক সম্মান শ্রেণীর প্রথম বর্ষের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ)  ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে।

অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিট বই বিক্রির মেলা বসেছে ক্যাম্পাস জুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে গেলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়।

ওভার ব্রীজের নিচ থেকে শুরু হয়ে ক্যা্ম্পাসের ভেতরে প্রধান সড়কের দুই ধারেও বসেছে বই-শিটের দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন ভর্তি গাইডের পাশাপাশি ৫-১০ পৃষ্ঠার শিট বই নিয়ে বসেন তারা।

এসব বইয়ের উপরে লেখা থাকে ১০০ % কমনের নিশ্চয়তা সহ নানান প্রলোভন।রাস্তার দুইধারে সাদা,নীল, লাল  সহ বিভিন্ন রংয়ের এসব শিট নজরে পরবে সবার আগে। এগুলোকে বলা হয় চান্স পাওয়ার শেষ চেষ্টা। অনেকে বলে থাকে ‘আবে রহমত’। বিভিন্ন রকম উপায় অবলম্বন করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রেতারা।

কারও কাছে গুরুগম্ভীর গলায় বলে ১০০ভাগ কমন আছে। কারও কাছে বলে না কিনলে পরে পস্তাবেন। এভাবেই ১০-২০ টাকা খরচে তৈরি করা শিট-নোট বিক্রি হয় ৬০থেকে ১০০ টাকায়। বিশেষ করে দেখা যায় যার বইয়ের দাম বেশি তার বইয়ের চাহিদাও যায় বেড়ে। সবার মধ্যে একটা গুজব ছড়িয়ে পরে। আসলে সব বই একই।

এভাবেই আকর্ষনীয় উপস্থাপনা ও প্রলোভনে পড়ে ভর্তিচ্ছুরাও শেষ সময়ের প্রস্তুতি হিসেবে এসব শিট বইকে নির্ভরযোগ্য ভেবে কিনতে আগ্রহী হন। তবে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে শিট বই কিনে কোন লাভ হয়নি বলে জানায় ভূক্তভোগীরা। ৪৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী  ১৪ পৃষ্ঠার একটি শিট বই দেখিয়ে বলেন, ‘গতবার ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন ৭০ টাকা দিয়ে এই শিট বইটি কিনেছিলাম।

অনেকেই কিনছিলো দেখে আমি ভেবেছিলাম হয়তো এ বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে। এ বই থেকে পরীক্ষায় ২-১ টি প্রশ্ন এসেছে তবে সেগুলো পূর্বে পড়া ছিলো। ভর্তিচ্ছুদের এসব বই কেনা উচিৎ না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তিচ্ছুরা যাতে ভর্তি পরীক্ষার সময় স্বল্প সময়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিতে পারেন সেজন্যে ভর্তি পরীক্ষার আগে থেকে অনেকে বই তৈরি করেন।

ভর্তিচ্ছুদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এটা করেন তারা। তবে এক শ্রেণীর শিক্ষার্থী ভর্তিচ্ছুদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায় করে। আমাদের সমাজে প্রতারকদের যেমন উপদ্রব। তেমনি রয়েছে প্রতাড়িত মানুষের সংখ্যাধিক্যও। শিট-নোট কিনে চান্স হওয়ার সম্ভাবনা নাই জেনেও মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সন্দেহ তাকে তাড়া করে। তাই জেনে বুঝেও এমন প্রতাড়নার শিকার হন অনেকে। আফসোসও করেন পরবর্তীতে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *