সিলেট টিলাগড়ে ফের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ : গোলাগুলি, দোকান ভাঙচুর

প্বেরথম সকাল ডটকম (সিলেট): বেশ কিছুদিন নিরব থাকার পর ফের জেগে উঠেছে টিলাগড়ভিত্তিক ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতা কর্মীরা। অনেক দিন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেও এবার সরাসরি গোলাগুলি ও দোকান ভাঙচুরের মাধ্যমে জানান দিয়েছে তারা জেগে আছেন।

যার জন্য টিলাগড়ে সরকার সমর্থীত দুই গ্রুপে সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার সময়। দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনায় টিলাগড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। লোকজন দিকবেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

খবর পেয়ে সিলেট শাহপরান থানা পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে পৌছে। স্হানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, মেজরটিলার আনছার ও টিলাগড়ের আজলার মধ্যে এ সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আজলা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদের ভাতিজা এবং আনছার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের কর্মী বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষ চলাকালে আজলা গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রায় ৭/৮ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এসময় তাদের হাতে ছিল বিদেশী পিস্তল, দেশীয় ওয়ান স্যুটার গানসহ অত্যাধুনিক আগ্নেঅস্ত্র। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষ চলাকালে টিলাগড় মাছ বাজারের পাশে ভুট্রোর হোটেল, রঞ্জিত সরকারের ভাগনা মিঠু তালুকদারের অফিস, রাজমহল সুইটমিট, আজমীর হোটেল এবং একটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

অনুমানিক প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী জানান। এদিকে একটি সুত্র থেকে জানা যায়, টিলাগড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, গেল কোরবানীর ঈদে গরুর হাটের ইজারা নেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। ওই সময় ‍যুবলীগের নেতা কর্মীরা কোরবানীর গরুর হাটের ইজারা নেন।

ছাত্রলীগের কেউই সে বাজারে কোন ধরনের কর্তৃত্ব কাটাতে পারেননি। আর সে কারনে কোরবানীর ঈদের আগেও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় আজলা এবং আনছারের মধ্যেও সংঘর্ষ চলে। সুত্র থেকে জানা যায়, আজলা টিলাগড়ে একক নেতৃত্ব দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর সে কারনে তার প্রতিপক্ষ কাউকে টিলাগড়ে অবস্হান নিতে দিচ্ছেনা।

মুলত এ কারনেই টিলাগড়ে কয়েকদিন পর পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে টিলাগড় ব্যবসায়ীরা কয়েকদির পর পর তাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের জন্য আতঙ্কগ্রস্হ হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, টিলাগড়ে আর ব্যবসা করা সম্ভব না। টিলাগড় হয়ে গেছে অস্ত্র প্রশিক্ষনের জায়গা।

কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা এ দুটি গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে জিম্মি। আর সে কারনে যা ইচ্ছা তাই করছে এরা। তবে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এসব ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, ‌ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে।  ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

This website uses cookies.