চিরিরবন্দরে ভূমি অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানী প্রকট : সাধারণ বৈধ ভূমি মালিকরা ক্ষুদ্ধ

মোঃ নুর আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর): চিরিরবন্দরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানী প্রকট আকার ধারণ করায় সাধারণ বৈধ ভূমি মালিকরা দিশেহারা হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও দ্রুত বদলী দাবী করেছেন।

জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাশফাকুর রহমান ২০১৬ সালের ১ আগষ্ট অত্র উপজেলায় যোগদানের পর হতে মাত্রাতিরিক্তভাবে ঘুষের হার বেড়ে গিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের হয়রানী করা শুরু হয়। ওই কর্মকর্তার ইন্ধনে কর্মচারীরা সুযোগ বুঝে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাশফাকুর রহমান নিজে টাকা না চাইলেও তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার নামে টাকা আদায় করে থাকেন। সার্ভেয়ার ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী সেলিম রেজা, নাজির আতিউর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আলমগীর হোসেন  ইচ্ছেমত প্রকৃত ভূমি মালিকদের মিসকেস, খারিজ কেসে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

প্রভাবশালী ভূমি মালিকরা নগদ অথবা অফিসের উন্নয়ন বাবদ মোটা অংকের টাকা দিয়ে বৈধ মালিক না হওয়া স্বত্ত্বেও অন্যের জমি তাদের নিজ নামে খারিজ করে নিয়েছেন এবং খারিজ বাতিল করে নিয়েছেন। সাধারণ ভূমি মালিক আলহাজ্ব আয়েন উদ্দিন মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, আমি জমির প্রকৃত মালিক হওয়ায় ওই এ্যাসিল্যান্ড ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর আমার পক্ষে খারিজ রায় দিয়ে পরবর্তিতে বিপক্ষের বৈধ কাগজপত্রাদি না থাকলেও তার কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে গত ২৪ আগষ্ট/১৭ সালে ওই খারিজ বাতিল করে দিয়েছেন।

আমি বৈধ মালিক হওয়া স্বত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা আমার কোন কথা না শুনে আমাকে ও আমার নাতীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। চিরিরবন্দরের বাসিন্দা এরশাদ আলী জানান, আমি বৈধ কাগজপত্রাদিসহ দখল সুত্রে মালিক হওয়া সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা আমার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, ওই কর্মকর্তা আমার বৈধ কাগজপত্রাদি না দেখে আমার অজ্ঞাতসারে আমার দখলীয় জমি ওই কর্মকর্তা ঢাকায় ট্রেনিং এ থাকা অবস্থায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকের নামে খারিজ করে দিলে আমি দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এর কাছে আপিল করি এবং রায় পাই।

তখন থেকে ওই কর্মকর্তা আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার অন্যান্য জমিতে ওই নেতাকে দিয়ে বিভিন্ন মিসকেসসহ হয়রানী মূলক মামলা করায়। তিনি আরও বলেন ওই কর্মকর্তা জমির খারিজ থাকলেও তা বাতিল না করে প্রভাবিত হয়ে অন্যজনকে খারিজ করে দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা পদোন্নতি নিয়ে বদলী হলেও গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করে পুর্বের তারিখ দিয়ে খারিজ করে দিচ্ছেন।

উপজেলার ঈসবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হায়দার লিটনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণও তার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত এমন ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ এ্যাসিল্যান্ড আর আসেনি। তার আচরণে আমরা ক্ষুদ্ধ।  উপজেলা নির্বাহী অফিস সুত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রংপুর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রাজস্ব মোঃ আব্দুল মজিদ আকষ্মিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

সেই মোতাবেক ওইদিন বিকেলে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলেও ওই কর্মকর্তা অফিস ছেড়ে যাননি। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় সরজমিনে ওই কর্মকর্তার অফিসে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভূমি মালিক জানান, গত মার্চ মাসে একটি কাজে সার্ভেয়ারকে টাকা দিয়েও কাজ না হওয়ায় শেষ মুহুর্তে  এসেছেন। একই অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সচেতন এক ব্যাক্তি জানান, ওই কর্মকর্তা প্রকৃত ভূমি মালিকদের হয়রানীসহ ঠকিয়ে প্রভাবশালীদের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার পক্ষে রায় দিয়ে কিছু টাকা অফিসের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করে অফিসটাকে চাকচিক্য করে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। কিছু দালাল সৃষ্টি করে অফিসটাকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত করেছেন। কোন কাজে গেলে দেখা যায় সারাক্ষণ চেয়ারে বসে সিগারেট খান ও মোবাইলে কথা বলেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাদরাসার জমি সংক্রান্ত কাজ শেষে ওই কর্মকর্তার আবদারে ওই অফিসে কয়েকটি সিসি ক্যামেরা কিনে দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাশফাকুর রহমান ও ওই অফিসের কর্মচারীরা উপরোক্ত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অত্রাফিসে কোন দুর্নীতি,ঘুষ লেনদেন হয়না। ভূমি মালিকদের হয়রানীর অভিযোগ সত্য নয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *