ঘুরে আসুন সপ্নের শহর তেঁতুলিয়া

সোহাগ হায়দার, পঞ্চগড় (প্রতিনিধি): বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়া। আর এ উপজেলার চার পাশের মধ্যে তিন পাশে ভারত, ভারতীয় সীমান্ত বেষ্টিত শান্তপ্রিয় এই উপজেলাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও লীলাভুমি বলা হয়ে থাকে।

উত্তরে ভারতের শিলিগুড়ি, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর এবং পশ্চিমে দার্জিলিং জেলা শহর। মহানন্দা নদীর দিকে তাকালে মনে হয় এ উপজেলাকে ভারত, বাংলাদেশে দুভাগে ভাগ করেছে মহানন্দা নদী।

বিশেষ করে বাংলাদেশের মধ্যে এটিই একমাত্র উপজেলা যেটি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। তেঁতুলিয়া দেশের একমাত্র উচু স্থান, এখান থেকে খালি চোখে বিশ্বেও উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট বা হিমালয়, পর্বতমালা কার্শিয়ান, কাঞ্চনজঙ্ঘা, দার্জিলিং দেখা যায়।

তাই এই উপজেলাকে সপ্নের শহর ও হিমালয় কন্যা বলা হয়ে থাকে। উপজেলা সদর এর মাঝ খানে অবস্থিত রয়েছে বিশাল এক তেঁতুল গাছ আর কথিত আছে, একটা সময় জমিদারের লোকেরা প্রজাদের এই তেঁতুল গাছে বেঁধে রেখে নির্যাতন করতো। সেই তেঁতুল গাছ থেকেই নাকি তেঁতুলিয়া নামকরণ। অনেকের ধারণা, বর্ধমানের মহারাণী এ অঞ্চলের প্রজাদেও কাছ থেকে খাজনা হিসেবে তেঁতুল বিচি নিতেন।

তবে নামকরণ যাই হোক, তেঁতুলিয়া হাল আমলের একটি শান্তিপূর্ণ এবং পরিচ্ছন্ন শহর। ঈদ এলেই এই উপজেলায় পর্যটকদের প্রচুর ভিড় নামে। প্রতিবছর পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বাংলাবান্ধার জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, শালবাহান রৌসনপুর, আনন্দধারা, ভীমের জঙ্গল ও খনিজ পাথর দেখতে ভিড় জমাচ্ছে।

তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর পাড়ে দাড়িয়ে পর্যটকরা উপভোগ করেন ভারতের দার্জিলিং আর হিমালয়ের সৌন্দর্য। খনিজ পাথর আর বিস্তৃর্ণ সমতল এলাকা জুড়ে চা বাগানও পর্যটকদেও দৃষ্টি কাড়ে। আমরা সকলেই জানি, চা বাগান হয় পাহাড়ের উচু নিচু জায়গায়। কিন্তু এ উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ সমতল ভ’মির উপর গড়ে ওঠা বিশালাকার চা বাগান। পাশাপাশি হিমালয় কন্যা খ্যাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যম-িত অপরূপ তেঁতুলিয়ার প্রধান আকর্ষণ মহানন্দা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা পিকনিক স্পট “ডাকবাংলো”।

পর্যটকদের অপার সম্ভবনাময় তেঁতুলিয়ায় চুরি, ছিনতাই আর খুনখারাবি নেই বললেই চলে। শীতের সময় এ উপজেলা পর্যটকদের কাছে আরো ভিন্ন হয়ে উঠে কারণ, খালি চোখে শীতের সময় পর্বতমালা আরো স্পস্ট দেখা যায়। রাতেও পাহাড়ের আলো চোখে পড়ে। তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহিনের সাথে কথা বল্লে তিনি জানান, বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটন স্থান আমাদের এই তেঁতুলিয়া।

পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠেছে এই তেঁতুলিয়া। প্রতিবছর ঈদে পর্যটকরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন তেঁতুলিয়া। আর এ এলাকার একমাত্র বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চালু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। তিনি আরো জানান, এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ উন্নত। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বা খুনখারাবি নেই। তেঁতুলয়াকে আরো উন্নত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *