ঝিনাইদহ হাসপাতালে ৮ মাসে ৩১৪ জন রোগীর মৃত্যু

মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক, (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ৮ মাসে ৩১৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিষপান, গলায় রশি, ষ্ট্রোক, সড়ক দুর্ঘটনা, ডায়ারিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে এ সব রোগীর মৃত্যু বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত আট মাসে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে  দুই লাখ ১৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশু রোগী রয়েছে ৪৬ হাজার ২৪৪ জন, পরুষ রোগী ৬৫ হাজার ১৭ ও মহিলা রোগী ছিল ১ লক্ষ ০৩ হাজার  হাজার ৯৯১ জন।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও জেলার প্রায় ১৭ লাখ মানুষের চিকিৎসালয় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দৃষ্টান্ত স্থ্াপন করেছে। যদিও হাসপাতালটি প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তার ও নার্স সংকট রয়েছে।

রয়েছে রোগীদের চরম শয্যা সংকট। প্রতিদিন ভর্তি ও বর্হিঃবিভাগে গড়ে ১২’শ করে রোগীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা ডাক্তারদের পক্ষে কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি মাসে গড়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ২৬ হাজার ৮৯৩ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একশ বেডের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রোগীর এই ক্রমাগত চাপ ও চিকিৎসা নজীর বিহীন।

রোগীর চাপে ডাক্তার ও নার্সদের নাভিঃশ্বাস উঠেছে। দিনকে দিন এই রোগীর চাপ চিকিৎসকদের সুস্থ ও নির্বিঘেœ রোগী দেখার মানসিকতাকে বিপর্যস্থ করে তুলছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ডাক্তারদের ৪১টি পদের মধ্যে আছে ২৯ জন। ১২ জন চিকিৎসকের পদ শুন্য থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ুব আলী জানান, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ৩/৪টি অপারেশন করার পর আবার বর্হিঃবিভাগে শতাধীক রোগী দেখতে হয়। এর ব্যাপতায় ঘটলে দুর্নাম ছড়ানো হয়। তিনি বলেন প্রতিদিন যে হারে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই তুলনায় লোকবল নেই।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডাঃ ইমদাদ বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও বিভিন্ন বিভাগ আলাদা করে এখন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সব ওয়ার্ডেই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। লোকবলের অভাব পুরণ না করলে রোগীর চাপে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ছি।

ঝিনাইদহ বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দুলাল কুমার চক্রবর্তী বলেন, এই মুহুর্তে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রোগীর যে চাপ তাতে জরুরী বিভাগ, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, আউটডোরে রোগীর উপস্থিতির আনুপাতিক হারে ডাক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন একজন চিকিৎসক এমএলএসএস পর্যন্ত পায় না, সেখানে সেবার মান কি আর হবে। তিনি দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স, আয়া, এমএলএসএস ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ সৃজন করে রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *