পাখি-প্রকৃতি এবং আমরা….

বিজয় মন্ডল: পাখির ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াটা এখন হয়তো শুধুই অতীথ। বেশিরভাগ পাখি প্রেমিদের এখন বাংলার প্রতিটি প্রান্তরে অবাধে ছুটে বেড়ানো বাংলার অপরূপ সন্দর্যের অন্যতম চাবিকাঠি পাখিদের অতীথ ঐতিহ্যের কথা স্বরন করেই মনভরাতে হয়, পাখিদের প্রতি তাদের ভালোবাসার আবেগ থামাতে হয়।

অথবা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে শহর ছেড়ে প্রত্যান্ত গ্রামে গিয়ে পাখিদের দর্শন নিয়ে আসতে হয়, কারন নগরায়নের এই যুগে ক্রমাগতভাবে নগরায়নের দিকে ধাবিত বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকাগুলোতেই ভুমির তুলনায় বৃক্ষায়ন করা হচ্ছে না। বরং বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে ক্রমাগতভাবে।

যে কারণে প্রকৃতি, পরিবেশ পড়ছে মারাত্মক হুমকির মূখে, পাখিরা নিরাপদ অাশ্রায়ের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। আর সেখানেও পাখিরা নির্বিচারে দু-পেয়ে জন্তুর শিকারে পরিনত হচ্ছে নিয়মিত ভাবে। কলকাতার প্রখ্যাত কবি “নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী” তার “ও পাখি,, কবিতায় যতার্থই লিখেছেন:-

“ও পাখি তুই কেমন আছিস, ভাল কি? এই তোমাদের জিজ্ঞাসাটাই মস্ত একটা চালাকি। শূন্যে যখন মন্ত্রপড়া অস্ত্র হানো, তখন তোমরা ভালই জানো, আকাশটাকে-লোপাট-করা দারুণ দুর্বিপাকে পাখি কেমন থাকে।

কবির লেখা থেকে এটা পরিষ্কার যে পরিবেশের অন্যতম সহায়ক পাখিদের করুন পরিনতির জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মনুষই দায়ী। মানুষের কারণেই ক্রমশ সংকীর্ণ হচ্ছে পাখিদের আবাসস্থল। নষ্ট হচ্ছে তাদের পরিবেশ। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো অদুর ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজম্ম শুধু পাখিদের গল্পই শুনবে।

যাহোক নগরায়নের হাওয়ায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এখোনো কিছু প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরন দেখতে পাওয়া যায়। এখানে প্রসাশনিক তৎপরতা, সাধারণ মানুষের সচেতনতা, এবং এই এলাকার পাখিদের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে শ্যামনগরে সুন্দরবন থাকায় এটা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে হয়।

বর্তমান সময়ে কিছু দিন যাবৎ শ্যামনগর উপজেলার প্রান কেন্দ্র, উপজেলার সবচেয়ে উচ্চশব্দ প্রবন ও জনাকীর্ণ স্থান শ্যামনগর পুরাতন বাস টার্মিনাল নামক স্থানের কয়েকটি বটগাছে বিকাল হলেই দেখা মিলছে হাজারো পাখির। সেসব পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত হচ্ছে গোটা এলাকা।

এ দৃশ্য দেখলে বোঝা যাবে শ্যামনগরের মানুষ, পাখি ও প্রকৃতির সাথে কতটা সহাবস্থানে রয়েছে। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থেকে যায় আমরা কি এসব জায়গা গুলোতে পাখিদের জন্য আরও একটু ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারিনা? যাইহোক সবশেষে প্রাকৃতিক সন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তরে মানুষ-পাখি ও প্রকৃতি নিরাপদ সহাবস্থানে থাকুক সেই প্রত্যাশা রইলো।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *