সিলেট নগরীর সোনারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বানরের উপদ্রব : অভিবভাকরা আতঙ্কে

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): সিলেট নগরবাসী বানরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। নগরবাসী না পারছেন বানর তাড়িয়ে দিতে না পারছেন বানরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে। এই উপদ্রব থেকে কীভাবে রক্ষা পাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

ক্রমশ বাড়ছে উপদ্রব। শিশু-তরুণ-যুবক ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে হামলার শিকার হচ্ছে শিশুরা। হঠাত্ দলবদ্ধ হয়ে খাবারের জন্য ছোটে বানর। বাসা-বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে। বিশেষ করে স্কুলে বানরের উপদ্রব বেশী।

এবার সিলেট নগরীর সোনারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বানরের উপদ্রবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছূদিন যাবৎ সোনারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বানরের উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়। দিনে দিনে তা বেড়েই চলেছে। আর সে কারনে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবভাকরা রয়েছেন আতঙ্কে।

জানা যায়, প্রতিদিন ২-৩টি বানর বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের ধাওয়া করে। এর ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পিটি এবং খেলাধুলা থেকে বিরত রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। অনেক সময় ক্লাস রুমে বানর ঢুকে পড়ে, সে কারনে বানরের ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা প্রাণ ভয়ে ক্লাস ছেড়ে বের হতে গিয়ে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, কিছুদিন পুর্বে বানরের কামড়ে এক ছাত্র আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এদিকে বানরের ভয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি হ্রাস পাচ্ছে। বানরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আমরা দ্রুত পদক্ষে নিব।

এদিকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর.এস.এম মুনিরুল ইসলাম জানান, আমরা এর আগে কয়েকবার বানরদেরকে ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বানররা জঙ্গলে গিয়ে আরো হিংস্র হয়ে উঠে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, সিলেটে বন্য প্রানী সংরক্ষন কেন্দ্র চালু হলে সেখানে নিয়ে বানরদেরকে রাখা হবে। তবে তিনি সিলেট বাসীর প্রতিপরামর্শ দিয়ে বলেন, বানরকে ক্ষ্যাপাবেন না, তাহলে সে ক্ষতি করবে না, বানর বন্যপ্রাণী তাকে তার মতো চলতে দেয়া উচিত। কেউ ভেংচি কাটলে বা তাড়াতে গেলে বানর ক্ষেপে যায়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *