নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সহচর পংকি খান এখন বিশ্বনাথ আ.লীগের সভাপতি!

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: বিএনপির একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ও নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর বিশ্বস্থ সহচর পংকি খান এখন সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সুবিধাভোগী, খাই খাই ও অন্যদলের বিতর্কিতদের দলে না আনার এবং অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরির জন্য হাইকমাণ্ডের নির্দেশ সত্ত্বেও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে সভাপতি করে কিভাবে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের কমিটি হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ৩১ জুলাই স্বক্ষরিত এ কমিটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সভায় অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান হয়নি।

অথচ, জীবনেও নৌকায় ভোট দেননি, বরং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অত্যাচার নির্যাতন করেছেন এমন একজনকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দেয়ায় সর্বমহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। দলের ভেতরে-বাইরেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অস্বস্তিতে রয়েছেন দলটির ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের গৃহদাহে পংকি খানের সভাপতি হওয়ায় যেন ঘি ঢেলেছে।

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে বিশ্বনাথে তৎকালীন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর ‘ডানহাত’ খ্যাত পংকি খানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতৃত্বে নির্যাতন-নিপীড়ন, হামলা-মামলার শিকার হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিছুতেই তাকে মেনে নিতে পারছেন না। গত ৩১ জুলাই রাতে সিলেট জেলা পরিষদে গোপনে কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে কমিটিতে স্বাক্ষর করা হয়।

কমিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পংকি খান ও তার সহযোগীরা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন কট‚ক্তি করেন বলে অভিযোগ। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে সিলেট-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

নির্বাচনের তিন মাসের মাথায় শফিকুর রহমান চৌধুরীর হাত ধরে দলবদল করেন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক পংকি খান। যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এরপর থেকে শফিক চৌধুরীর মদদে রাজনীতি করছেন পংকি খান। তার যোগদানের খবরে ক্ষোভ দেখা দেয় দলটির উপজেলা পর্যায় থেকে তৃণমূলে।

এরপর ২০১৫ সালের ৮ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কণ্ঠভোটে সভাপতি হন পংকি খান। তবে, তা অবৈধ দাবি করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ। তারা অভিযোগ তোলেন, সম্মেলনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উপস্থিতিতে হঠাৎ রাত ১১টার সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পংকি খানকে সভাপতি ও বাবুল আখতারের নাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রস্তাব করলে সভায় হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়।

একপর্যায় জেলার নেতারা তড়িঘড়ি করে ভোটগ্রহণ না করেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এ নিয়ে দলের সভানেত্রীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে অভিযোগ দেন স্থানীয় নেতারা। গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম ফিরোজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতছিন ঢাকায় ধানমন্ডিস্থ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সিলেটের কী অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বনাথে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কি করে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়? ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠোফোনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ এইচ এম ফিরোজ আলী ও ফখরুল আহমদ মতছিন। দলীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরের দাখিলকৃত ৪০ পাতার এ অভিযোগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই পংকি খানের অত্যাচার নির্যাতনের কথাও বর্ণনা করা হয় এবং তৎকালীন পত্র-পত্রিকার ফটোকপি দাখিল করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পংকি খান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় ’৯৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাসে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করেন। তাদের ছবি পদপিষ্ট করে আগুনে পোড়ান তিনি। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে পংকি খানের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক এ এইচ এম ফিরোজ আলীর ৬টি দাঁত ও পা ভেঙে দেয়া হয়।

এ সময় তাকে পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। এ বছর ৮ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের (প্রয়াত) নেতৃত্বে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি ইছকন্দর আলীর বাড়ি থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্বনাথ বাজারে পৌঁছলে পংকি খানের নেতৃত্বে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ৪/৫টি বন্দুক দিয়ে গুলি করলে তৎকালীন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা বাবলু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য সিতার মিয়া, ছাত্রনেতা সায়েক মিয়াসহ ৭০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

এ হামলায় সায়েক আহমদ নামের একজন ছাত্রলীগ কর্মীর চোখ অন্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তাকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠান। বর্তমানে সায়েক লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের মানবাধিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, যে লোক বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, সেই লোক যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আওয়ামী লীগেরই সভাপতি হয়ে যায়, তাহলে সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও নেতাকর্মীর অবস্থা কেমন হবে দলীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক তা বিবেচনা করবেন।

এ ঘটনায় পংকি খান ও ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে মামলা (বিশ্বনাথ জিআর ৩৬/৯৬) দায়ের করলে সাক্ষীর অভাবে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে (প্রয়াত) রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চবিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনাথ কলেজ মাঠে জনসভায় আসার পথে পংকি খানের নেতৃত্বে তার গাড়িবহরকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয়। দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগনেতা ফখরুল আহমদ মতছিন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির, রনজিৎ চন্দ্র ধর, উপজেলা আ. লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বশারত আলী বাছা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম ফিরোজ আলী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিতার মিয়া, যুবলীগনেতা শাহ আলম খোকন ও তার চাচা কাশেম আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি ও বাড়ি ছাড়ানোর পেছনে পংকি খানের হাত ছিল বলে জানা যায়।

এ ছাড়াও গত ২১ মার্চ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সিলেট আগমন উপলক্ষে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১২টি গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের মঞ্চেও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে প্রকাশিত হয়েছে।

পংকি খান কোনোদিন আওয়ামী লীগে ভোট দেননি এবং তার স্বজনরাও আওয়ামী বিদ্বেষী। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দায়ের করা মামলাও রয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন পংকি খানের বিরুদ্ধে একটি কর ফাকির মামলা দায়ের করে। এ মামলায় তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পরিচয় দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করিয়ে দেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করার কৌশল হিসেবে বিএনপির লোক দিয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতছিন বলেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পংকি খানকে শফিক চৌধুরী দলে এনে সভাপতি বানিয়েছেন।

কিন্তু তিনি জানেন না, এই পংকি খান বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করে ছবি পুড়িয়েছেন। আমিসহ অনেক নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন। তখন জেল থেকে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। পংকি খানকে দলে আনা এবং সভাপতি করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল আহমদ মতছিন বলেন, ২০১৫ সালের ৮ জুনের সম্মেলনে আমি সভাপতি প্রার্থী ছিলাম।

কিন্তু কতিপয় নেতা অর্থের বিনিময়ে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করে তাকে সভাপতি করেছেন। বিশ্বনাথের নেতাকর্মীরা এমন ব্যক্তিকে কখনো মেনে নেবেন না। উপজেলা আ. লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম ফিরোজ আলী বলেন, যে ব্যক্তি জীবনেও নৌকায় ভোট দেয়নি।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া ‘আত্মহত্যা’র শামিল। তবে, সব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে পংকি খান ভোরের কাগজকে বলেন, আমি প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ছিলাম। ভুলবশত শয়তানের ধোঁকায় পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ছিলাম।

পরে আমার আত্মীয়স্বজন ও নেতারা মিলে ভুল সংশোধন করিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করান। সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। জেলা আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞেস করুন।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কীভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন জানতে চাইলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, কীভাবে হলেন তা বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের যারা নেতা, কর্মকর্তা, যারা ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের জিজ্ঞেস করুন। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পংকি খান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর আগেও আওয়ামী লীগ করেছেন। ২০১৩ বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা নির্বাচন করেন পংকি খান। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে শফিক চৌধুরী বলেন- না, আমার কাছে এ রকম কোনো খবর নেই। সুত্র:- ভোরের কাগজ

 

This website uses cookies.