উজানের ঢলে ও টানা বষর্নে নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

98আবু মোতালেব হোসেন, (নীলফামারী): উজানের ঢল ও গত তিন দিনের টানা বর্ষনের ফলে নীলফামারীর নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত হেক্টর রোপা আমনের ফসল হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

বন্যার কারনে মৎস্যচাষীদের মাছ বের হওয়ার ফলে মাথায় হাত পড়েছে। তিস্তার পাশাপাশি বুড়ি তিস্তা, কুমলাই, দেওনাই, চুড়ালকাটা, ও নাউতরা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর দু পাশের বসবাসরত শত শত পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

  উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা হতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টের তিস্তা ব্যারাজে নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ মিটার) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রন ও পূর্বাভাস কেন্দ্রে সুত্রে জানায়, গত ৩দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৪৫৪ মিলিলিটার। গত বুধবার ১৫৮ মিলি, বৃহস্পতিবার ১৬৪ মিলি ও শুক্রবার বৃষ্টিপাত রেকড করা হয়েছে ১৩২মিলিলিটার। ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে এলাকায় মৎস্য চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে।

গ্রামের অধিকাংশ লোকলয়ের মাটির রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।  ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা কুমলাই মৎস্য খামার চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, টানা বর্ষন ও উজানের ঢলের কারনে তার সমিতির ৪শ একর পুকুরের ৫লক্ষাধিক টাকার মাছ বের হয়ে গেছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, টানা বর্ষনের কারনে তার পুকুরের ২লক্ষাধিক টাকা মাছ বের হয়ে গেছে। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারনের টেপাখড়িবাড়ী  ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের শতাধিক একর রোপা আমন ক্ষেত হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে।

শুক্রবার নতুন করে ৪টি পরিবারের বসতভিটা ভেঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মাটির বাধটি বিলিন হওয়ার ইতিমধ্যে ৫০ বিঘা জমির ফসল ও ১২টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ীতে তিস্তার নদীর ডাঁনতীরে তৈরি করা ২ কিলোমিটার মাটির বাধটি ইতিমধ্যে ৫শ মিটার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গ্রামটিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানায়, পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মাটির বাধটি ভেঙ্গে লোকলয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে হাটু পানিতে তলিয়ে  রয়েছে। খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন ছোটখাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের শতাধিক পরিবারের বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, তিস্তার উজানে ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করার এলাকায় বোরো ক্ষেত গত ৩দিন থেকে তলিয়ে রয়েছে। গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন বলেন, নাউতরা ও কুমলাই নদীর পানি বৃষ্টির কারনে দুপাশে কয়েকশত একর জমির আমন ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কিসামত ছাতনাই গ্রামের শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ফরেষ্টের চর, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ীর ৫শতাধিক পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছাতুনামার বসবাসরত অধিকাংশ পরিবারের হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

অপরদিকে বুড়ি তিস্তা. নাউনতরা ও কুমলাই নদীর পানি বৃষ্টির কারনে রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা নদীর বাশের সাকো ভেঙ্গে পড়ার এলাকাবাসীকে চরম দুভোগে পড়তে হচ্ছে। নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন বলেন, জরুরী ভিত্তিতে চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহিনুর আলম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ডিমলার বন্যা কবলিত এলাকার পরিদর্শন করেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, টানা বৃষ্টির কারনে ডিমলাসহ আশেপাশের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে থাকলেও বিকাল ৩টা তা আরও ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যহত রয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *