প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাবির চারুকলা অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম

RABIআবু সাঈদ সজল, (রাবি): শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্মগুলো রুমের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। কিছু চিত্রকর্ম বাথরুমের উপরে রেখে দেওয়া। আর কিছু অনুষদের ডীন অফিসের এক পাশে।

ভাস্কর্যগুলো যেভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ছিল সেভাবেই পড়ে আছে। অপর্যাপ্ত ক্লাসরুমের কারণে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

অন্যদিকে একই রুমেই ২য় বর্ষের ক্লাস ও অনার্সের ফাইনাল বর্ষের পরীক্ষা চলছে। রয়েছে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব।

চারুকলার জন্য বরাদ্দকৃত ভবনও পূর্ণতা পায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের চিত্র এটি। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপাখানা; মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য; গ্রাফিক ডিজাইন-কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস এই ৩টি বিভাগ আছে।

আবার তিনটি বিভাগের অধীনে ৮ টি বিষয়ের পড়ালেখা হয় এখানে। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নেই কোন বিভাগের। অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্য কলা, ছাপচিত্র বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, একই রুমেই ২য় বর্ষের ক্লাস ও অনার্স ফাইনাল বর্ষের পরীক্ষা চলছে। পাশের রুমেই চলছে প্রথম বর্ষ ও ৩য় বর্ষের ক্লাস।

একই বিভাগে শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম গুলো রাখা হয়েছে বাথরুমের উপরে। কোথাও ক্লাসের ভিতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চিত্রকর্মগুলো। মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, গ্যালারি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে ভাস্কর্যগুলো।

শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্মগুলো যথাযথ সংরক্ষণ করা হচ্ছেনা দাবি করে গত ১৭ এপ্রিলে ভাস্কর্য উল্টিয়ে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। যদিও এই অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করায় দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা। অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুতাহের অভিযোগ করে বলেন, বিভাগগুলো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোন সেকশন অফিসার ও উপ-রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

অনুষদে তিন বিভাগের সভাপতির কোন চেম্বার নেই। একটিমাত্র কম্পিউটারেই চলে পুরা অনুষদের কার্যক্রম। কম্পিউটার অপারেটরের পদও শূণ্য। অনুষদের যাবতীয় অফিসিয়াল অর্থিক লেনদেন করেন কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের নি¤œমান অফিস সহকারি উমাপদ রায়।

এরকম নানা সমস্যার কথা জানান তিনি। জানা যায়, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম, শিক্ষা উপকরণ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা এখনও লাঘব করা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন, অনুষদের তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটির বিল পাশ হয়ে আছে তবে পূর্ণতা লাভ করেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা উপকরণের অভাবে ৪ বছরের কোর্স সম্পন্ন হচ্ছে ৭-৮ বছরে। তিন বিভাগের ৯ টি ব্যাচ এখনও সেশন জটের কারণে তৃতীয় বর্ষেই রয়ে গেছে বলেও জানা যায়। যথা সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে না পারা বা সেশন জটের জন্য শিক্ষকদের অবহেলাকে দায়ি করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী।

ভর্তি ও রেজাল্ট দেরিতে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। প্রকাশ না করার শর্তে অনুষদের ২০১২-১৩ বর্ষের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপাখানার এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকরা মাঝে মাঝে রেজাল্ট শিট হারিয়ে ফেলন। তখন নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী রেজাল্ট তৈরি করেন।

আমাদের সকল কোস প্রাকটিকাল বেইজ। তারা ইচ্ছা করলে এক দিনেই সব চিত্রকর্মগুলো দেখতে পারেন। কিন্তু তারা অবহেলার কারণে রেজাল্ট দিতে দেরি করেন। শিক্ষকদের মাঝে গ্রুপিং প্রচন্ড আকারে বিদ্যমান। এর কারণে এক শিক্ষকের অনুসারিকে অন্য শিক্ষক ভালোভাবে নেন না।

আর এর কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের রোষানলের শিকার হন বলে দাবি করেন অনেক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং খুব বেশি। এর কারণে শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়তে হয়। শিক্ষাকদের মধ্যে নোংরা রাজনীতির কারণে সেশনজট তীব্র আকারে ধারণ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদের ডীন মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রথমত প্রয়োজন শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল মানসিকতা। আমাদের বিভিন্ন সমস্যা আছে। সেশনজট আগের তুলনায় এখন অনেক কম। অর্থিক অনুদারে অভাবে আমাদের বিভাগরে কোন গ্যালারীরুমের অভাবে শিল্পকর্মগুলো অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন সহযোগীতা করলে খুব দ্রুত সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *