একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অন্যের নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করে প্রতারনা!

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কয়েকটি সিম তুলে তা দিয়ে চালানো হচ্ছে অপরাধ। জ্বিনের বাদশা হয়ে বিভিন্ন জনের কাছে টাকা দাবী, হুমকি, ব্যাংক লোনসহ নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব সিম। আর এসব করছে সিম কোম্পানীর বিভিন্ন পদে থাকা কর্মচারীরা।

এমনই একটি প্রতিবেদন শুক্রবার ৪ আগষ্ট তুলে ধরেছে ইন্ডিপেডেন্ট টিভির তালাশে। সেখানে দেখা যায় সিম কোম্পানীর বিক্রেতারা একজনের আইডি দিয়ে সিম তুলে তা বিক্রি করছে অপরাধীদের কাছে। আর এসব সিম নিয়ে অপরাধীরা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপরাধমুলক কর্মকান্ড। এর আগেও এরখম একটি অভিয়োগে এয়ারটেলের প্রায় ১ লাখ সিম জব্দ করেছিল পুলিশ।

আটক করেছিল ২২জনকে। আটকৃতদের মধ্যে এয়ারটেলের কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি করে সিম বিক্রি। তবে এবার শুধু এয়াটেল নয় গ্রামীন ফোন, বাংলালিংক, রবির সিমও পাওয়া যাচ্ছে বাইপাসের মাধ্যমে।

এসব সিম বিক্রি করে যেমন অপরাধীদের অপরাধ করার সুযোগ করে দিচ্ছে, অপরদিকে একেকজন কর্মচারী রাতারাতি হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার মালিক। কয়েকটি সুত্র থেকে জানা যায়, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিমকার্ড রেজিষ্ট্রেশনের সময় আঙ্গুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে তাদের নামে অন্য মোবাইল ফোনের নম্বর রেজিষ্ট্রেশন করে তা লুকিয়ে বিক্রি করছে দিগুন টাকায়।

জানা যায়, এসব সিম একেকটি বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। নতুন সিম কেনার জন্য আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব ছাড়াও সিম কেনা যাচ্ছে বাজার থেকে। এর জন্য লাগছে না আঙুলের ছাপ, দিতে হচ্ছে না জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও। অন্যের আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত হাজার হাজার সিম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।

অন্যের নামে নিবন্ধিত এসব প্রিঅ্যাক্টিভ সিম চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের হাতে। আর তা দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে দায় পড়বে যার নামে নিবন্ধন হয়েছে তার ওপরই। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ। তারা বলছেন, আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে এসব সিম বাজারে আনা হচ্ছে। যদিও আদালতে এ বিষয়ে একটি রিটও হয়েছিল, যা খারিজ হয়ে গেছে।

কিন্তু নাগরিকদের কথা চিন্তা না করে বিভন্নি সিম কোম্পানীর কর্মচারীরা দোকানে দোকানে এসব সিম বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এদের বিষয়ে এখনই নজর দেয়া জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এমনকি এদের আয়ের উৎস খূজে বের করতে দুদুকেরও এগিয়ে আসা উচিৎ বলে ানেকে মনে করছেন। অপরদিকে রিচার্জ-মোবাইল ব্যাংকিং নামেও চালাচ্ছে প্রতারনা:- বিভিন্ন এলাকায় সিম কোম্পানির এজেন্ড পরিচয় দিয়ে অফিস নিয়ে বসে এরা।

এরপর এই অফিসের নামে শুরু হয় সিম কোম্পানিতে চাকরী দেয়ার নামে জামানত নেয়ার প্রতারনা। অনেককে সর্ত সাপেক্ষে দেয়া হয় নিয়োগ পত্র। নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের কাজ হচ্ছে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৪০-৫০টি রিচার্জের সিম বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচারজকারি দোকানে ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা এবং তাদের বুঝান যে এই সিমের মাধ্যমে সকল সিমে রিচার্জ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম করা যায়।

বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙয়ের ছাতার মতো বিস্তার লাভ করছে ভুঁইফোড় এক সিমে সকল রিচার্জ ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেনা প্রশাসন। অতি উৎসাহিত প্রতি গ্রাহকরা ওই সকল সিমে জনসাধারণের সিমে ফ্লাক্সিলোড দেয়ার জন্য প্রায় ১০-২০হাজার টাকা রিচার্জ করেন।

বেশ কিছুদিন এভাবে চলার পরিই প্রতারক চক্রের প্রায় কয়েক হাজার সিম বিক্রি করা হয়ে গেলে এবং ওই সকল সিমের রিচার্জের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েই উধাও হয়ে যায় এসকল প্রতারক চক্র। একটি সুত্র থেকে জানা যায়, একজন গ্রাহক বারবার আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছেন।

আর সেগুলো ডিলিট না করে প্রতিটি ছাপের বিপরীতে নতুন সংযোগ নিবন্ধন করা হয়েছে, যা পরে অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন চড়া দামে। হাজার টাকা থেকে শুরু হয়েছিল এক একেকটি ভুয়া নিবন্ধিত সিমের বিক্রি। পরে তা নেমে আসে দুইশ ও তিনশ টাকাতেও।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *