সিলেটের খাদিমনগরে রহিমা-ফরিদ কিন্ডার গার্টেনে ছাত্রীকে কচ্ছপ বানিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

232

মোঃ মতিউর রহমান, (সিলেট): সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের রহিমা ফরিদ কিন্ডার গার্টেনের ৫ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীকে কচ্ছপ বানিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিষয়টি ধামাছাপা দিতে একটি কুচক্রী মহল উঠে পড়ে লেগেছে বলে জানা গেছে। গত ৫ আগস্ট রহিমা ফরিদ কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা লাকী বেগম দ্বারা চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছে ঐ স্কুলের পঞ্চম
শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী উমদারপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার মেয়ে মোছাঃ লিজা আক্তার।

জানা যায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লিজাকে ক্লাসে দীর্ঘক্ষণ কচ্ছপ বানিয়ে বেধে রেখে নির্যাতন করা হয়। বর্তমানে ঐ মেধাবী শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে সূত্র জানায়। শিক্ষিকা লাকী বেগম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন লাকী বেগম এ প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর পূর্বে “কিশোরকলি প্রি ক্যাডেট একাডেমীর” আয়ার চাকুরী করত পরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে এ প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পায় সে ভীষণ বদমেজাজি পূর্বে আরো কয়েকবার লাকী আক্তার আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এভাবে নির্যাতন করেছে। গত বছরের
ডিসেম্বর মাসে একটা শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটাতে গিয়ে এক পর্যায়ে হাতে থাকা ছাতা দিয়ে ছাত্রীর মাথায় আঘাত করে, পরে হাতে থাকা ছাতা ভেঙ্গে ও থামেনি এই শিক্ষিকা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কমিটির কাছে অভিবাভকরা অভিযোগ জানানো হলে শিক্ষিকা লাকী বেগমকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে একাধীকবার বহিষ্কার করেন পরিচালনা কমিটি। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির কারণে ফের লাকী বেগমকে চাকরি দিতে বাধ্য করা হয় স্কুল কতৃপক্ষে।

গোপন সূত্রে জানা গেছে বর্তমান এই পরিস্থিতিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করছেন কিন্ডার গার্টেনের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক হাজী আব্দুছ ছামাদ মেমোরিয়্যাল একাডেমীর এমপিওভুক্ত ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ সোলায়মান আহমদ তিনি হাই স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন যা নিয়মহীন অবৈধ।

নির্যাতিত লিজার মা সালমা বেগম জানান স্কুলের শিক্ষিকা লাকি বেগম আমার মেয়েকে কচ্ছপ বানিয়ে অনেক সময় বেধে রাখে। সে বাড়ীতে এসে অজ্ঞান হয়ে যায়, এখন আমার মেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এ বিষয়ে রহিমা -ফরিদ কিন্ডার গার্টেনের সভাপতি মোঃ নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান এ রকম ঘটনা খুবই দুঃখজনক আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চাইলে আমাকে স্কুল প্রতিষ্ঠাতা কিছু ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কারণে আমি কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।

একই ভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রহিমা ফরিদ কিন্ডার গার্টেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তিনি জানিয়েছেন এ বিষয়ে কমিটির সাথে কথা হয়েছ তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যোগাযোগ করা হলে সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পুলিন রায় জানান, ছাত্রী কচ্ছপ বানানোর বিষয়টি মর্মান্তিক খুবই কষ্টদায়ক তবে একজন শিক্ষক হাজী আব্দুছ ছামাদ মেমোরিয়্যাল একাডেমীর এমপিওভুক্ত ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও কিন্ডার গার্টেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন এটা বেআইনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিব।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *