ডেইজি সরোয়ারের সফলতা অর্জনের গল্প

সলিম আহমদ: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত-১২ নং ওয়ার্ডের (ওয়ার্ড নং ৩১, ৩৩ ও ৩৪) কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, সংগীত শিল্পী, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঢাকায় চালু হওয়া নারী বিক্রেতা পরিচালিত ‘উইমেন্স হলিডে মার্কেট’ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা সিলেটের মেয়ে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি (ডেইজি সরোয়ার)এর কথা এখন সিলেটবাসীর মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

গর্ব করছেন সিলেটবাসী এমন এক নারীকে নিয়ে। বিশেষ করে গোলাপগঞ্জের গ্রামে গ্রামে চলছে তার গুনোগান। এমনকি অনেকে তাকে নিয়ে আগামীতে এলাকার উন্নয়নের স্বপ্নও দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন ডেইজির দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। যেকোন সফলতা অর্জনের আনন্দ তখনই দ্বিগুণ হয় যখন সেটাকে অর্জন করতে গিয়ে লড়তে হয়। যদি চিন্তা শক্তি স্থির আর অটুট তাকে তাহলে যেকোন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়ে সফল হওয়া যায়। আর সে কাজটি করে দেখাচ্ছেন আলেয়া সারোয়ার ডেইজি।

কিভাবে, কি করে তিনি আজ গোলাপগঞ্জ তথা ঢাকাবাসীর মধ্যমনি হলেন, সে বিষয়ে আজ কিছু তুলে ধরব। তবে আগে জেনে নিন তার সম্পর্কে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ০৫নং বুধবারীবাজার ইউপির চন্দরপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মতলিব আলীর মেয়ে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি। ডেইজির চাচা একে এম গউছ সিলেট-৬ আসনের এমপি ছিলেন। অপরদিকে তার মামা বাবরুল হোসেন বাবুল সিলেট পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ডেইজি সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। আর সে কারনে স্বভাবত তার রক্তে নেতৃত্বের স্বপ্ন বাসা বাধেঁ।

তিনি সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় সুযোগ পান নেতৃত্ব দেয়ার। স্কুলের ৭ম শ্রেণীতে থাকা কালেই ইয়েলো বার্ড লিডার ও পরবর্তীতে গার্লস গাইড লিডার নির্বাচিত হন তিনি। আর সেখান থেকে ডেইজির নেতৃত্ব দেয়ার হাতিখড়ি শুরু। এসএসসি পাশ করে তিনি চলে যান ঢাকা। ঢাকাতে থাকাবস্হায় সেনা কর্মকর্তা গোলাম রাসুল ভূইয়ার সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বন্দি হয়ে পড়েন শৃঙ্কল জীবনে। ক্যান্টনমেন্টের নিয়মনীতি মেনে তাকে চলতে হয়। এর মধ্যে তিনি সেরে ফেলেন মাস্টার্স এর পর্ব।

সংসার জীবনে তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে যুক্তরাজ্যে অ্যারো স্পেস নিয়ে এবং ছেলে দার্জিলিংয়ের সেন্ট যোসেফে লেখাপড়া করছে। স্বামী সেনা কর্মকর্তা গোলাম রাসুল ভূইয়া সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ডেইজি মিশতে থাকেন সাধারন মানুষের। বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। পরিচয় হয় সবার সাথে। এভাবে শুরু হয় তার সফলতা অর্জনের প্রথম ধাপ।

এক পর্যায়ে তিনি যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিলের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যুব মহিলা লীগ নামে একটি সংগঠন করবেন শেখ হাসিনা। তখনই অপু উকিলের অনুপ্রেরণায় যুব মহিলা লীগে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ডেইজি। শুরু হয় তার রাজনীতি অঙ্গনে চলাফেরা। ২০০০ সালেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে অপু উকিল, নাজমা আক্তার, ডেইজি সারোয়ারসহ বেশ কয়েকজন দেখা করেন। তিনি যুব-মহিলা লীগের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। কাজ শুরু করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। আর সে কারনে শেখ হাসিনা নাজমা আক্তারকে আহবায়ক এবং অপু উকিলকে যুগ্ম-আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। সেই সদস্য ছিলেন ডেইজি।

এরপর তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে সিলেট জেলা ও চট্রগাম জেলা কমিটি গঠন করেন। এর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে দেশের প্রথম যুব-মহিলা লীগের কমিটি গঠন করেন ডেইজি। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা-থানার কমিটি গঠন করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি হয়ে উঠেন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার তিনি কয়েকবার জেল খাটেন। এভাবে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ডেইজি সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকা উত্তর থেকে নির্বাচন করবেন। সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়েই আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ৩১, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ডের (আসন-১২) কাউন্সিলর হন ডেইজি।

এর পূর্বে তিনি ঐ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। আর সেজন্য তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আপন করে নেন ৩১, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্হাভাজন হয়ে ২০১৩ সালের জাতিসংঘের অধিবেশনে সফরসঙ্গী হন। এছাড়াও তিনি একজন সফল উদ্যোক্তাও। দেশে প্রথমবারের মতো ডেইজি সারোয়ার আগ্রহী ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা নিয়ে উইম্যান্স হলিডে মার্কেট চালু করেছেন। যা দেশ বিদেশে প্রচুর আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে।

২৫ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হলে সেখানেও সহ-সভাপতির পদ দেয়া হয় ডেইজি সারোয়ারকে। তিনি শুধু রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বও নন, ডেইজি সারোয়ার একজন সংগীত শিল্পী। ছোটকাল থেকেই তিনি গান গাইতেন গীটার বাজাতেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী। ডেইজি সরোয়ারকে নিয়ে আনন্দের শেষ নেই চন্দরপুর গ্রামের লোকজনের। তাকে নিয়ে গর্ব করেন তারা। গ্রামের লোকজন জানান, আমাদের গ্রামের মেয়ে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করছে, যা আমাদের গৌরবের বিষয়। আমরা তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *