‘গোপনে টাকা কেটে নিচ্ছে বাংলালিংক’

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই গোপনে টাকা কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মো. মাহবুব কবীর।

৬ আগষ্ট রোববার তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে মাহবুব কবীর লিখেছেন, ‘বাংলালিংক আমাকে কোন প্রকার লিখিত, কারিগরি বা ডিজিটাল অনুমতি কিংবা আমার অ্যাক্টিভেশন ছাড়াই বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করে অনেক টাকা কেটে নিয়েছে।

যেমন গত ৬ মাসে কয়েকটি সার্ভিসের নামে প্রায় ৩৬০ টাকার বেশি কাটা হয়েছে। আরও অনেক অজানা সার্ভিস আছে যা আমি তাদের কাস্টমার কেয়ার থেকে জানতে পেরেছি, সে বাবদ বিভিন্ন অংকের টাকা কাটা হচ্ছে যা আমি অনুমতি দেইনি বা অ্যাক্টিভেশন করিনি। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলালিংক অপারেটর বিভিন্ন নামে এবং কোডে (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস) প্রতিদিন একাধিক ম্যাসেজ পাঠায়।

যেখানে চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ম্যাসেজের নিচে একটি নাম্বার দিয়ে বলে, এই সার্ভিস না চাইলে ডিঅ্যাক্টিভেট করুন। প্রতিদিন মোবাইলে আসা অসংখ্য ম্যাসেজের ভিড়ে এসব নামে বা কোডে আসা ম্যাসেজ পড়া বা দেখা করও পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে তারা গ্রাহকদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা অত্যান্ত অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কেটে নিচ্ছে।

মাহবুব কবীর তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘বিভিন্ন নাম এবং সার্ভিস প্রথম চালু করার সময় যেহেতু আমার অনুমতি নেয়া হয়নি বা সার্ভিস চালুর বিষয়ে ফ্লাক্সিলোড বা ইন্টারনেট ডাটা কেনার সময় কোন প্রকার ম্যাসেজ, বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ দেয়া হয়নি বা আমি কোন সার্ভিস অ্যাক্টিভেট করিনি, সেহেতু বাংলালিংক অপারেটর আমার বিনা অনুমতিতে বা অজ্ঞাতসারে বিভিন্ন সার্ভিস চালু করে অনেক টাকা অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কেটে নিয়ে আমার আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করেছে, গুড বিজনেস প্র্যাক্টিসের মুখে কালিমা লেপন করেছে, আমার বা আমাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, যেহেতু কোন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করা যাবে না এবং তা সুস্পষ্ট ডিরেক্টিভস অন সার্ভিস অ্যান্ড ট্যারিফ (২০১৫) এর ১০(এ) ধারায় লঙ্ঘন।

সব শেষে মাহবুব লিখেছেন, ‘যেহেতু বাংলালিংক অপারেটর টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ ভঙ্গ, বিশেষ করে ৪৯ (ঘ) ধারা অনুযায়ী কোন সেবার ট্যারিফ বা উক্ত সেবার জন্য প্রদেয় কোন চার্জের বিষয়ে আমাকে অন্যায় বা অযৌক্তিকভাবে বৈষম্য বা অসুবিধাজনক পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়েছে বা করা হয়েছে।

সেহেতু টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ (সংশোধনী ২০১০ সনের ৪১ নং আইন) এর ৫০ (৩) ধারা অনুযায়ী আমি বাংলালিংক অপারেটরের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার একদিন আগে সরকারের এই আমলা তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বাংলালিংক প্রিপেইড গ্রাহকদের বলছি। আপনার অজান্তে অসংখ্য সার্ভিস তারা চালু করেছে বা করছে প্রতিনিয়ত এবং অনবরত টাকা কেটে নিচ্ছে। অথচ আপনি তা চালু করেননি। এরকম অন্য অপারেটরেও হয়ত হচ্ছে। একটি দেশে ইচ্ছা মত কিভাবে লুটপাট করা যায়, এ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমার গত ৬ মাসে একটি সার্ভিস বাবদ কাটা হয়েছে ৩৬০ টাকা। তাদের যদি ১ কোটি প্রিপেইড গ্রাহক থাকে, তাহলে গত ৬ মাসে তারা অতিরিক্ত লুটপাট করেছে ৩৬০ কোটি টাকা। এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে নাকো তুমি। দেখা হবে বিটিআরসি এবং ভোক্তা অধিকারে। সুত্র:- প্রিযকম।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *