অপরূপ নৈসর্গে দেখা পাকশীর বুকে লালনশাহ ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

আবু সাঈদ সজল, (রাবি): পদ্মার কোলে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ছেয়ে থাকা উত্তর জনপদের দ্বারপ্রান্তে  ভেড়ামারা ও পাকশী বেড়ানোর এক অপরূপ নিসর্গে পরিণত হয়েছে। এখানে এলে রূপসী পদ্মার ঢেউয়ের কলধ্বনি, চারদিকে সবুজের বেষ্টনী ও উত্তাল হাওয়ার পরশে যেমন হৃদয় ভরিয়ে দেয়।

তেমনি এ এলাকায় রয়েছে ইতিহাস ও প্রাচীন কীর্তিসহ বিংশ শতাব্দীর প্রথম ও দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লালন শাহ সেতু। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্মৃতিচিহ্নে সমৃদ্ধ ভেড়ামারা পর্যটনের মনোরম স্পটে সমৃদ্ধ হয়েছে।

দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরো একটি অন্যতম স্থান। প্রতিদিন শত-সহস্র দর্শনাথীর ভিড়ে মুখর হয়ে থাকে ভেড়ামারা-পাকশীর উভয় পাড়। তারই সুবাদে অদেখাকে দেখার আশায় আমি সহ দীগন্ত শাহাদাত, হিরা, মতি, যুবায়ের, আর্শিক, রতন, নিশাদ, দিদার, মামুন, হিজল চাকমা, সাগর, ই¯্রাফিল, আলামিন সাগর২ সকল বন্ধুরা দিগন্ত ছোয়া স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চললাম চির কাঙ্খিত মনকাড়া দর্শর্নীয় স্থানে।

সেখানে সকাল-বিকাল মনে হয় স্বপ্নের মিলনমেলা। স্ব-চোখে না দেখলে বুঝা যাবে না। ভেড়ামারার অন্যতম কীর্তি হলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ পাশে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু লালন শাহ সেতু। লালন শাহ সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

তৎকালীন প্রকৌশলী জগতের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব রবার্ট উইলিয়াম গেলস ও ফ্রান্সিস স্প্রিংগের নকশায় ব্রেইন্স ওয়ালটি এন্ড ক্রিম নামের প্রতিষ্ঠান এই রেল সেতু নির্মাণ করে। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময়ের বৃহত্তম রেল সেতুটির উদ্বোধন করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে এই সেতু।

আজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা ও পাকশীর উভয় পাড়। আরো দেখার মতো রয়েছে ভেড়ামারা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জিকে সেচ প্রকল্প। ওপারে পাকশীতে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় অফিস, উত্তরবঙ্গের কাগজ কল, ইপিজেড ও ঐতিহাসিক ভারতবর্ষের ফুরফুরা খানকা শরিফ এবং পাকশীর রূপপুরের ঐতিহ্যবাহী বিবিসি বাজার।

আরো দেখার মতো রয়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্থপতি রবার্ট উইলিয়াম গেলসের তৈরি একটি বাংলো। প্রকৌশলী উইলিয়াম গেলের নামানুসারে ‘গেলে কুঠি’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলোটি। এই বাংলোতে বসেই তিনি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নকশা জরিপ এবং নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করেন। বাংলোটিও তাই কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে। খুব সহজেই দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।

পাকশীতে আরো দেখা যায় চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ। শিক্ষার প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠটি দেখতে গেলে একবিংশ শতাব্দীতে প্রবেশের মুখে স্মৃতির দুয়ার খুলে নিয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসি বাজারে বিবিসির বাংলা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের খবর শুনতেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। সেই থেকেই বিবিসি বাজার নামে আজও পরিচিত হয়ে আছে বাজারটি।

This website uses cookies.