গুরুদাসপুরে মসজিদের জমি ভোগ-দখলের অভিযোগ

মোঃ নাজমুল হাসান নাহিদ, গুরুদাসপুর (নাটোর): নাটোরের গুরুদাসপুরে মসজিদের জমি হান্নান নামের একজন ভোগ-দখলের  অভিযোগ করায় ৫ দিন ধরে তালা দিয়ে রেখেছে জমি দখলকারী আঃ হান্নান।

উপজেলার মশিন্দা মাঝপাড়া জামে মসজিদের নামে ওয়াক্ফকৃত ৬৬ বিঘা জমি রয়েছে। ওই জমি জোড় করে ভোগ দখল করছেন মসজিদের মোতওয়াল্লি আব্দুল হান্নান ও তার স্বজনরা।

এতে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলে ৫দিন ধরে মসজিদে তালা দিয়ে রাখায় সাধারন মুসল্লিরা নামায পড়তে পারছেন না ওই মসজিদে। জমি দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, অবৈধভাবে জমি ভোগদখল করার কারনে মসজিদটি কোন উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়াও অর্থের অভাবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। একারণে ০২ জুলাই থেকে তালা ঝুলছে ওই মসজিদটিতে। ওই অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে  মোতাওয়াল্লি আব্দুল হান্নান মসজিদে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

জানা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে হাজি সখাতুল্লাহ সরকার নামীয় এক ব্যক্তি মসজিদটির অনুকূলে (১৯২৯ সালে) ৬৬ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করেন। শর্ত হিসেবে দলিলে উল্লেখ রয়েছে, জমিদাতার যোগ্য উত্তরসূরীরা বংশ পরম্পরায় ওই জমি দেখভালসহ মসজিদটির মোতওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ওই জমির আয় থেকে মসজিদটির উন্নয়ন, ইমাম-মোয়াজ্জিমদের বেতন-ভাতাসহ মসজিদটির সার্বিক ব্যয় বহন করবেন।

কিন্তু জমিদাতার বর্তমান উত্তরসূরি দায়িত্বে থাকা মোতওয়াল্লি আব্দুল হান্নান মসজিদের নামের জমিগুলো নিজে ও তার ভাই-ভাতিজারা ভোগ-দখল করে খাচ্ছেন। পক্ষান্তরে মসজিদটির কোন উন্নয়ন হয়নি। উপরন্ত মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি।

ফলে মসজিদটিতে নামায আদায় করতে পারচ্ছেন না গ্রমবাসী। মোতওয়ালি হান্নান বলেন, তিনি প্রায় একযুগ ধরে মসজিদটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুরেছেন। মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাাফিজুর রহমান বলেন, মসজিদের সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে দুই একদিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন অভিযোগটি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *