গোলাপগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি : খাদ্য বিশুদ্ধ পানি ত্রাণের জন্য হাহাকার

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ (সিলেট): থেমে থেমে বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

গত ১০ দিন ধরে গোলাপগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক নদী তীরবর্তী গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে প্লাবিত হয়ে পড়েছে নতুন নতুন এলাকা।

পানিবন্দি হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন  উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।এসব এলাকায় কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।সেই সাথে বন্ধ রয়েছে বন্যা কবলিত এলাকার প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম।

সরজমিন উপজেলার কুশিয়ারার তীরবর্তী বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুড়ি গ্রামে গেলে দেখা যায়,এ এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। ততাদের খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরে ভিতরে পানি ঢুকে পড়ায় শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে বানভাসি পরিবারগুলো।

পাকা সড়কসহ কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত দেখা দিয়েছে পানি বাহিত রোগ। অপ্রতুল ত্রাণের পাশাপাশি বন্যার পানিতে টিউবয়েল ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।এদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য নৌকা করে মোবাইল স্বাস্থ্য সেবা ও প্রাণিসম্পদ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু কররা হয়েছে।

বুধবার উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা আমুড়া ইউনিয়ন থেকে এ মোবাইল স্বাস্থ্য সেবার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন। কালিজুড়ি গ্রামের বানভাসি মতি বিবি জানান, গত ১০ দিন ধরে ঘরের ভিতরে হাঁটু পানিতে পরিবারের ১০ জন বাস করছেন।তাদের ঈদও কেটেছে এই পানি বন্ধি অবস্থায়। তাদের পরিবারে ঈদের কোন আমেজ ছিলনা।

তিনি মেম্বার বা চেয়ারম্যান কেউ খোঁজও নেয়নি বলে অভিযোগ করেন। একই গ্রামের কয়েছ আহমদ জানান, ‘ঘরে মাচান বানিেয় ১০ দিন ধরে বউ-বাচ্চা নিয়ে বসবাস করছেন। চারপাশে পানি আর পানি, কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। ১ বার রেঁধে কোন রকমে তিন বেলা খাচ্ছি।তিনি আরো জানান বন্যায় টিউবওয়েল পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছি বিশুদ্ধ পানির জন্য।

শিকপুর এলাকার ক্যান্সার ব্যাধিতে আক্রান্ত আনছার আলী জানান, ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করতে আমার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।এখন শেষ সম্বল মাথাগোঁজার ঠাই বাড়িও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আনছার আলী আরো জানান, তাদের প্রতিবেশী ৬ টি পরিবারের ঘরের ভিতরে হাটু পানি।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রবাসীদের সহযোগীতায় এ ইউনিয়নে আড়াইটন চাল বানভাসির মধ্যে বিতরণ  করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ইউনিয়নের শুধু কালিজুড়ি গ্রামেই ২২০ টি পরিববার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এসব এলাকার সর্বত্রই চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। বুধবারীবাজার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্তদের তুলনায় অপ্রতুল।

এ ক্রাণ সকল ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোতে সরকার থেকে তিন দফায় সাড়ে ৪৫ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৭২ হাজার টাকা এবং অর্ধ-লক্ষাধিক টাকার ভিজিএফ কার্ড বন্যার্তদের প্রদান করা হয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *