রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক পুষ্পের লাল গালিচা

আবু সাঈদ সজল, (রাবি): উত্তরাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। পাখ-পাখালির কলতানে মুখরিত এই ক্যাম্পাসকে কেউ বলে মতিহারের চিরসবুজের ক্যাম্পাস।

বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছসহ এখানে রয়েছে হরেক রকমের গাছগাছালি, তার সবুজ পত্রপল্লব দিয়ে সারা বছর সাজিয়ে রাখে মায়াবী এই বিদ্যাপীঠ। ক্যাম্পাসকে শান্ত সুনিবিড় রাখতে যেন নিজ থেকেই গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছে এই চির সবুজের বৃক্ষগুলো।

এরই সঙ্গে যোগ হয়েছে কাঠফাটা গ্রিষ্মের রং বেরঙের বাহারি ফুলের সমাহার। ফুলগুলো ক্যম্পাসের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুনে। এই ক্যাম্পাসের ছোট ছোট পিছঢালা রাস্তার দেবদার শোভা পায় ,সঙ্গে রংয়ের পাতা বাহারী গাছের সারি। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই গোল চক্করে চোখে পড়বে শহীদ সামসুজ্জোহার সমাধী তার চারদিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ পুষ্পে লাল হয়ে আছে।

রাস্তায় লেপটে থাকা লাল ফুলগুলো দেখলে মনে হবে শিক্ষার্থীদের লালগালিচায় অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে বসে  আছে। সারা ক্যাম্পাসজুড়ে ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে চোখে পড়বে ১০০প্রজাতির ও বেশি ফুল। ঠিক প্রধান ফটকের মতো ২য় ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডানদিকে জুবেরী মাঠ পেরিয়ে একটু সামনে পা বাড়ালেই আশ্চর্য জনক নামে পরিচিত  ক্যাম্পাসের আড্ডার স্থান  ইবলিশ চত্বর উত্তর দিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল পূর্বে মমতাজ উদ্দিন কলাভবনে দৃষ্টি রাখলে দেখা মিলবে বাহারী ফুলের সমাহার।

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী  আশিক ইসলাম বলেন ক্লাশ শেষে যখনই অবসর সময় পাই ঠিক তখনই টুকিটাকি  চত্বরে ছুটে আসি। এসময় বন্ধুদের আড্ডার মিলন মেলা আমাদের মুগ্ধ করে ।ক্যাম্পাস চলাকালিন সময়ে আড্ডার স্থান এটি। কলা অনুষদের ইসলামের ইতিহাস  ও সংস্কৃতি  বিভাগের অনার্স পর্বের শিক্ষার্থী দীগন্ত শাহাদাত বলেন , এ বছর যখন ক্যাম্পাসে ভর্তি পরিক্ষা দিতে আসি তখনই সোনালী ফুলের সমাহার দেখেই এই ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়ে যাই, সে আরো জানান ফুলে ফুলে সাজানো স্থ্ান গুলো ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষন।

সেখানে রয়েছে  চোখে নজর কাড়ার মতো ৩০ প্রজাতির ও বেশি ফুল, এর মধ্যে ডালিয়া, গাদা, চায়না গাদা,জারুল ,সূর্যমূখি ,রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গ, নানা প্রজাতির গোলাপ,কাঠ গোলাপ,মধু মালতি, কামিনী, জবা, বেলী ,সোনালু, স্বর্নচাপা, কাগজ ফুল , রজণীগন্ধা ফুলের সমাহার।

এছাড়া কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার ও মসজিদের প্রবেশ পথে দুপাশে শোভা পায় হাজারো রঙবেরঙ্গের ফুলের উকিঝুকি। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের অবসরে এসব ফুলের সুবাসের টানে ছুটে আসে। চলে টানা আড্ডা, দুষ্টুমি আর খুনসুটি। ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ সজল ফুলের প্রতি তাদের অনুরাগের কথা প্রকাশ করে বলেন ,ফুলের সাথে থাকতে থাকতে মন মানসিকতা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

ফুলের সাথে সাথে ক্যাম্পাসটিও আমার বেশ ভালো লাগে। নৃবিজ্ঞানের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুবর্না আক্তার মিমি জানালেন ,ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গা গুলোর অন্যতম প্রশাসন ভবনের সামনে সামসুজ্জোহা চত্বর।বাহারী ফুলের মিষ্টি ঘ্রানের টানে এখানে ছুটে আসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনাকর্শনীয় প্রধান গেইট, কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার, কাজি নজরুল ইসলাম মিলণায়তন, টিএসসিসি, স্টেডিয়াম, ডরমেটরী ভবন, জিমনেসিয়াম, প্রশাসন ভবন, বিভিন্ন কলা ভবন, শিক্ষক কোয়ার্টার, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সিনেট ভবন, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, শহীদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ, বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ, কেন্দ্রিয় ক্যাফেটেরিয়া, মেডিক্যাল সেন্টার, জুবেরী ভবন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল, শহীদ স্মৃতিসংগ্রহশালাসহ প্রায় অধিক জায়গায় ফুল থাকে সবসময়। ক্যাম্পাসের সর্বত্র ফুলের কদর থাকলেও আবাসিক হল গুলোতেও কিন্তু ফুলের কদর একদমই কমে যায়নি।

শহীদ হবিবুর রহমান হল, মাদারবক্শ হল, শহীদ শোহরাওয়ার্দী হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ সামসুজ্জোহা হল, শাহ মাখদুম হল, সৈয়দ আমির আলী হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল, মন্নুজান হল, রোকেয়াহল, তাপসী রাবেয়া হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, রহমুন্নেসা হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা হলের সবজায়গায় মনমাতানো ফুলে পরিপূর্ন।

এত ফুল চিরসবুজ ক্যাম্পসের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা এসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে। এখানে এসে এই সুন্দর ফুলের বাগানের সুন্দর ফুলগুলোকে স্মৃতির ফ্রেমে বেধে রাখতে ভুল করেনা কেউ । সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যে নতুন এক রূপ ধারন করেছে।

This website uses cookies.