লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ

কবির হোসেন, (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনীতিতে দিন দিন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে ঘিরে। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে সরকার দলীয় নেতা কর্মীরা এখন দ্বিধা বিভক্তের দিকে দাবিত হচ্ছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমপি প্রার্থীরা তৃনমূলের নেতা-কর্মীদের সু-সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন, এবং তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপর রয়েছেন। জাতীয় পার্টির এখানে রাজনৈতিক কর্মকান্ড দশম সংসদ নির্বাচনে রায়পুরে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় মোঃ নোমান সবসময় নির্বাচনী এলাকায় যাতায়ত করছেন।

সভা-সেমিনার, রাস্তাাঘাট উন্নয়নে সহযোগীতা করে যাচেছন। জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। আগের চেয়ে বর্তমানে জেলা জাতীয়পার্টির জনসমর্থন বেড়েছে। নেতাকর্মীদের সাথে এমপির সু-সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান জোট এমপি জনাব নোমান আবারো জাতীয় পার্টি থেকে নমিনেশন পাবেন বলে শুনা যাচ্ছে।

স্বাচীপ নেতা এহসানুল কবীর জগলুল একজন স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। তিনিও বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইতোমেধ্য দলীয় নেতাকর্মীদের আস্তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি জনাব হারুনুর রশীদের ব্যক্তি ইমেজ নৌকা প্রতীকের জয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে।

এছাড়াও বর্তমানে দলীয় অনুষ্ঠানগুলোতে তার উপস্থিতি বেশ সরব রয়েছে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান তৃণমূলের পছন্দের নেতা জনাব মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার (বিএসসি) আওয়ামীলীগের টিকেট পেতে সব ধরনের চেষ্টাই চালিয়ে যাচেছন। মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার রায়পুরের আওয়ামী রাজনীতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবেই মনে করছেন তৃনমুলের দলীয় নেতাকর্মীরা।

এই ব্যপারে তিনি বলেন, জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে শক্তিশালী করতেই লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আমি নৌকার বিজয় চাই, আমাদের প্রচেষ্টা এবং শপথ থাকবে  যিনিই নৌকার টিকিট পাবেন তাকে সবাই মিলে বিজয়ী করা। তিনি ইতোমধ্যে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখের কান্ডারী হিসেবে মাষ্টার আলাতাফ হোসেন হাওলাদার দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।

এই আসনে  বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্বেও স্থানীয় দূর্বল নের্তৃত্বের কারনে দল এগুতে পারছেনা। বিএনপি থেকে সাবেক এম পি ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব আবুল খায়ের ভুইয়ার নামই আলোচিত হচেছ বেশী, বিএনপির  আরেক প্রার্থী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়ক কর্নেল মজিদ(অবঃ) বিএনপির টিকেট পেতে চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

পদবঞ্চিত, দলের বাইরে থাকা কিছু নেতা-কর্মী কর্নেল মজিদের পক্ষে প্রচারনা চালাচেছন। কুয়েত আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ ইসলাম পাপুল নবাগত নেতা হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে পেরেছেন। তরুন এই নেতা ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। জামায়াতে ইসলাম এই আসনে অত্যান্ত শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনে না গেলে তাঁদের প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা আমীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার রুহুল আমিনের নামই আলোচিত হচেছ বেশী। জামায়াত এখানে প্রকাশ্য রাজনীতি করতে না পারলেও গোপনে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচেছ।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। সব মিলিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে  লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টির, জামায়াত, জমজমাট ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচেছ।  স্থানীয় ভোটাররাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করছে, যেখানে তারা নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করতে পারেবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *