কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে অপহৃত যুবক উদ্ধার : পিস্তল, গুলিসহ আটক ৬

আলহাজ্ব সজীব আহমেদ, (ভৈরব): মুক্তিপণের দাবিতে খুলনা থেকে প্রাইভেট কারসহ অপহৃত মো. মোনায়েম খান মিথুন (২৬) নামে এক যুবককে বাজিতপুর থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প অপহরণ চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে। একটি পিস্তল, ১১ রাউন্ড অ্যামুনেশন ও দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতরা বাজিতপুর উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের মো. মতিউর রহমান ডুলু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক রাসেল (৩৫), তাড়াইল উপজেলার আকুবপুর গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের ছেলে মো. সাঈদ ইবনে নুর শিহাব (২৯), বাজিতপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাজী সাইদুর রহমানের ছেলে মো. গোলাম কাউছার মন্টু (৩৮), একই উপজেলার পূর্ব কুতুবপুর গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২০), নগরবান্দা গ্রামের মো. মুছা মিয়ার ছেলে মো. মান্নান মিয়া (৩০) এবং ভৈরব উপজেলার সাদিকপুর গ্রামের ইমাম উদ্দিনের ছেলে সোহানুর রহমান ইছাক (১৯)।

সোমবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ জানান, গত ৭ই জুন খুলনা থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারসহ মো. মোনায়েম খান মিথুন নিখোঁজ হয়। গত ১৬ই জুন এই অপহরণের বিষয়টি অপহৃত মো. মোনায়েম খান মিথুনের বড় বোন মারিয়া জুলি র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পকে জানায়।

পরিবার থেকে জানানোর পর র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে অপহৃত মিথুনের বড় বোনের কাছে ব্যাংক একাউন্ট, এসএ পরিবহন ও অন্যান্য মাধ্যমে ৩৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের জন্য বার বার ফোন করতে থাকে এবং টাকা না দিলে মিথুনকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।

এই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প। তারা জানতে পারেন, অপহরনকারীরা কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুরে অবস্থান করছে। পরের দিন ১৭ই জুন অপহরণকারীরা অপহৃতের বড়বোন মারিয়া জুলির কাছে ফোন দিয়ে কিশোরগঞ্জ এসএ পরিবহনে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ, স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি জুয়েল চাকমা ও কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র‌্যাব সদস্যরা কিশোরগঞ্জ এসএ পরিবহনের আশেপাশে ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়।

পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক অপহৃতের বড়বোন অপহরণকারীদেরকে কিশোরগঞ্জ এসএ পরিবহনে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর ছদ্মবেশি র‌্যাব সদস্যরা কিশোরগঞ্জ এসএ পরিবহনের ম্যানেজারের মোবাইল নম্বর থেকে অপহরণকারীদের ফোন দিয়ে তাদের নামে খুলনা থেকে সাত লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

র‌্যাবের এই ফাঁদে পা দিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য মো. ওমর ফারুক রাসেল ও মো. সাঈদ ইবনে নুর শিহাব মুক্তিপণের সাত লাখ টাকা নিতে কিশোরগঞ্জ এসএ পরিবহনে আসে। টাকা গ্রহণের সময় র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্পের অভিযানিক দল তাদেরকে আটক করে।

পরবর্তীতে আটককৃত দেয়া তথ্য মতে, মো. ওমর ফারুক রাসেলের সাতবাড়িয়া গ্রামের বাড়ি থেকে অপহৃত মো. মোনায়েম খান মিথুন ও মিথুনের ব্যবহৃত সাদা প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়। এসময় সেখান থেকে অপহরণ চক্রের চার সদস্য মো. গোলাম কাউছার মন্টু, মো. রাকিবুল হাসান রাকিব, মো. মান্নান মিয়া ও সোহানুর রহমান ইছাককে আটক করা হয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *