গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভুল রিপোর্টে সিজার অপারেশন : রোগীদের ভোগান্তি

এম শিমুল খান, (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভাঙ্গারহাটে শান্তিলতা ক্লিনিক এন্ড ডিজিট্যাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে ভুল রিপোর্টে সিজার অপারেশন, রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

গতকাল সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত ০২/০৩/১৭ইং তারিখে ভাঙ্গারহাট পাখর বেপ্টিস চার্চের পালক স্টিফেন বিশ্বাস তার স্ত্রী ববিতা বিশ্বাসকে ভাঙ্গারহাট শান্তিলতা ক্লিনিক এন্ড ডিজিট্যাল ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে মাতৃত্বকালীন পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে জান।

উক্ত ক্লিনিকে প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে চেম্বার করতে আসা ডাক্তার প্রিন্স মৈত্র ববিতা বিশ্বাসের আল্ট্রাসনোগ্রাম সম্পন্ন করে ২টি বাচ্চা আছে মতে রিপোর্ট দেন। ববিতার স্বামী ও সজনেরা ২ বচ্চার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পুনরায় গত ৩১/০৩/১৭ ও ০৫/০৫/১৭ইং তারিখে আবারো ২টি আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে তাতেও ওই একই রিপোর্ট আসে।

এ জন্য তারা নির্ধারিত তারিখের আগেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২ বাচ্চার ডেলিভারী চুক্তি করে গত ২৬/০৫/১৭ইং তারিখে উক্ত ক্লিনিকে সিজার অপারেশন করালে ১ বাচ্চা পাওয়া যায়। বাচ্চার বাবা স্টিফেন বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ৩টি রিপোর্টেই ২ বাচ্চা দেখতে পেলে, কিন্তু সিজার করিয়া আমাকে বাচ্চা দিলো ১টি, তাহলে আমার আরেক বাচ্চা কই।

০১৭২২৩৮৮১৮৮ নম্বরে ডাঃ প্রিন্স মৈত্রের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়, আমারও ভুল হয়েছে। তিনি আরো বলেন আল্ট্রাসনোগ্রামে আমি একটি ছায়ার মত কিছু দেখেই ২ বাচ্ছা আছে মতে রিপোর্ট দিয়েছি।

স্থানীয় এলাকাবাসী মৃত সতেন্দ্রনাথ বাড়ৈর ছেলে অরুন বাড়ৈ বলেন, আমার ছেলে অনিমেষ বাড়ৈ (১৭) কে শান্তিলতা ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে গেলে একটা ভুল ইনজেকশন দেয়, তাতে আমার ছেলেটার একটি পা অকেজ হয়ে পড়লে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে পা ভালো করতে আমার ৪ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ওই ক্লিনিকে প্রশিক্ষিত কোন ডাক্তার বা নার্স নেই। প্রায়ই এরকম দূর্ঘটনা ঘটে। মোবাইলের মাধ্যমে রোগীকে প্রেসক্রিপশন করে দেয়। সাধারন মানুষ এখানে গিয়ে প্রতারিত হয়।

আমরা সরকারের কাছে এই প্রতিষ্ঠানের মালিকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ব্যাপারে শান্তি লতা ক্লিনিক এন্ড ডিজিট্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক দেশবন্ধু বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের রিপোর্ট ও ডাক্তার ভুল দিয়েছিল, তাতে কি হয়েছে, আমারও কিছুই হবে না।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *