বোদায় মহাসড়কে চলছে ধান ভুট্টা মাড়াইয়ের মহোৎসব : বাড়ছে দূর্ঘটনা

মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল, বোদা (পঞ্চগড়): পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার অন্যতম মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ে সহ ছোটবড় আঞ্চলিক সড়কগুলো যেন এখন ধান ও ভুট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে।

এশিয়ান হাইওয়ে সহ প্রত্যন্ত এলাকার সড়কে চলতি ইরি বোরো মৌসূমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়েছে। স্থানীয় মানুষ ধান, ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য ব্যস্ততম সড়কগুলোকেই বেছে নিয়েছেন। এতে করে একদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজের ফলে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনার পরিমাণ। গত কয়েকদিনে এসব সড়কে বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। দূর্ঘটনায় আহতদের বেশির ভাগেরই মানুষের কারো হাত বা কারো পা ভেঙ্গেছে কেই কেই গুরুতর জখম হয়ে এখন হাসপতালে ভর্তি রয়েছেন।

এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, রাস্তার বেশিরভাগ অংশের উপর মেশিন বসিয়ে চলছে ধান মাড়াই এবং শুকানোর কাজ অন্যদিকে ধানের খড় দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে রাস্তার পরিধি কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে পুরো রাস্তা জুড়ে অংখ্য মানুষ এ কাজের সাথে জড়িত থাকার ফলে রাস্তার উপর মানুষের ভীড় বেড়ে যাচ্ছে।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে ধানমাড়াই, ধান খড় শুকানো ও খড়ের গাঁদা তৈরীর প্রবনতা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের সর্তক করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ঠ সকলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও ধানমাড়াই ও শুকানো বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বোদা দেবীগঞ্জ মহাসড়কের সংলগ্ন কৃষক রিপন ও রমজান বলেন, এই কাজগুলো অবৈধ ও বিপদজনক হওয়া সত্বেও ধান মাড়াই, শুকানোর জন্য বাড়িতে জায়গা না থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে ক্ষেতের ধান কেটে সড়কের উপর তুলতে হচ্ছে। এখানেই মাড়াই ও ধান খড় শুকাতে হচ্ছে। স্থানীয় মাইক্রেবাস চালক মমিনুল বলেন, যারা মহাসড়কে ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে তারা রাস্তার বেশিরভাগই দখল করে নিয়েছে।

অল্প রাস্তার মধ্যে ভ্যান সাইকেল মানুষ ও বড় যানবাহন চলাচলের খুবই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যারা এই কাজে জড়িত তারা যানবাহন আসলেও না দেখার ভান করে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একটু অসর্তক হলেই দূর্ঘটনা হতে পারে তাই প্রতিনিয়ত ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোদা হতে সাকোয়া পর্যন্ত দুই শতাধিক স্থানে জুড়েই মানুষ ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত।

কৃষকরা তাদের ফসল তাড়াতাড়ি মাড়াই ও শুকানোর জন্য বাড়ীর বদলে এই মহাসড়কেই বেছে নিয়েছেন। প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা হলেও এবং ঝুকি থাকা সত্বেও অসংখ্য মানুষ এই কাজ করেই চলেছে। রাস্তার অধিকাংশ জায়গা তারা দখল করে নিয়েছেন যানবাহন চলাচলেল জন্য রাস্তার পরিমাণ খুবই সংর্কীন্ন।

বড় বড় যানবাহনকে তাদের গতির অর্ধেকও এখনো ব্যবহার করতে পারছেন না তাছাড়াও রিক্সা ভ্যান তো রয়েছেই। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, এই সকল কাজের জন্য রাস্তার নিরাপত্তা কমে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসছে এবিষয়ে শিঘ্রই বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য এর বিরুদ্ধে প্রাশসনের আইন অনযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *