এবার ছাত্রলীগে সাংবাদিক!

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক:  ছাত্রলীগের ‘পুনর্গঠিত’ কেন্দ্রীয় কমিটিতে দুজন সাংবাদিক ‘সহ-সম্পাদক’ পদে মনোনীত হয়েছেন বলে চিঠি পেয়েছেন। ২১ মে রোববার সংগঠনটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠি তাদের পাঠানো হয়।

এর আগে ২০১৬ সালে ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয় ছয় সাংবাদিককে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫ এর ক উপ-ধারা অনুযায়ী, যে কোনো নিয়মিত ছাত্র ছাত্রলীগের কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য হতে পারে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কোনো ছাত্র ছাত্রলীগের কর্মকর্তা হতে পারবে না। চলতি কার্যকালের মধ্যে কারো ছাত্রজীবন ব্যত্যয় দেখা দিলে নির্বাহী সংসদ তার সদস্যপদ বাতিল বা মেয়াদ পর্যন্ত বহাল রাখতে পারে। গঠনতন্ত্রের এই ধারার সঙ্গে সাংর্ঘষিক হওয়ার স্বত্ত্বেও পূর্ণকালীন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই সাংবাদিক ছাত্রলীগে পদ পেলেন।

কমিটিতে স্থান পাওয়া দুজন হলেন- দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক বারেক কায়সার এবং দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার সালাহ উদ্দিন জসিম। এ দুজনই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে পদ পেয়েছেন। এই দুজনের বাইরে আরও কোনো সাংবাদিক রয়েছে কিনা, জানা যায়নি।

কারণ নতুন পদ পাওয়াদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তাদের নামে শুধু চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান দিয়ে গঠনতন্ত্রের নিয়ম বর্হিভূত কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ  বলেন, ‘যে দুই সাংবাদিককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে তারা পার্ট-টাইম চাকরি করেন’।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিটিতে স্থান পাওয়া দুই সাংবাদিক নিয়মিত ছাত্র নন এবং বর্তমানে পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। এদিকে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠিত হয়নি বরং নতুন করে আরও শতাধিক নেতাকর্মীকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানিয়েছেন, কিছু সদস্যকে বাদ দেওয়া হলেও কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ থেকে বাড়ানো যায় না। এ কমিটিতে যেসব নেতা নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও চাকরিতে যোগ দিয়েছে তাদের বাদ দিয়ে কমিটি ‘পুনর্গঠন’ করা হয়।

এদিকে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রকে দূরে রেখে সাংবাদিকতার নৈতিক দিক বিবেচনা করলেও সাংবাদিকদের ছাত্রলীগে যোগ দেওয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফসান চৌধুরী। নৈতিকতাই যে পেশায় মূল চর্চা সেই পেশায় যুক্ত থেকে রাজনীতিতে জড়িত হয়ে এরা জাতিকে কী দিবেন এমন প্রশ্ন রেখে আফসান চৌধুরী  বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক চর্চা ঢুকেছে কিন্তু রাজনীতি ও সাংবাদিকতা কখনও একসঙ্গে যেতে পারে না।

প্রসঙ্গত, বর্তমান কমিটিতে নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও চাকরিতে যোগ দেওয়া নেতাদের বাদ নিয়ে কমিটি ‘পুনর্গঠন’ করার কথা জানিয়ে ২১ মে রোববার নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের প্রত্যেককে ছাত্রলীগের প্যাডে এ সংক্রান্ত ‘চিঠি’ দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দেওয়া হয় ছয় সাংবাদিককে।

তাদের মধ্যে দৈনিক মানবকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান গণযোগাযোগ-বিষয়ক উপসম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম রনি ও ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার রুহুল আমিনকে সহ সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়। এছাড়াও একটি অনলাইনের সহ-সম্পাদক জাকারিয়া বুলবুলকে সহ-সম্পাদক, জাতীয় একটি দৈনিকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রেজাউদ্দৌলা প্রধান ওরফে রেজা আকাশ ও আরেকটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি পিয়াল হাসানকে সহ-সম্পাদক করা হয়।

ওই সময়ে ছাত্রলীগের কমিটির তালিকার শেষ পৃষ্ঠায় বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘উপরিউক্ত কমিটিতে কেউ ব্যবসা বা চাকরিতে যোগদান করিলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে। কিন্তু নতুনদের দেওয়া চিঠিতে এমন কোনো কিছু লেখা নেই। এদিকে ছাত্রলীগে যেন অনুপ্রবেশকারী, পরগাছা, অছাত্র ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক থাকতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

চলতি বছর সংগঠনটির ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী ও পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ গড়তে হবে। কমিটি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে, যারা ত্যাগী তাদের কমিটিতে নিতে হবে। নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি করতে হবে; সেই ধারা শুরু হয়েছে। ত্যাগী কর্মীরা যেন কোণঠাসা না হয়। ছাত্রলীগে যেন পকেট কমিটি কোথাও না হয়।

এটা আমি বিশেষভাবে বলছি। এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগে ফার্মের মুরগি ঢুকেছে’। এর আগে গত ২২ মার্চ সিলেটে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে ‘কাউয়া’ ঢোকার কথা বলেছিলেন তিনি। এই বক্তব্যের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ‘ফার্মের মুরগি’ ও ‘কাউয়া’ বলতে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করে দলে পদ পেয়েছেন এবং দলে যারা সুবিধাবাদী, তাদেরকেই বুঝিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *