সিলেটের হরিপুরে ২ গ্রামেবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ আহত ৫০

শোয়েব উদ্দিন, জৈন্তাপুর (সিলেট):সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুওে বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ ছাত্রের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালিস বৈঠকে ২ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্র ও  ইউপি সদস্য সহ আহত ৫০।

সমঝোতার চেষ্টা অব্যহৃত, শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়ন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ ২৩ মে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ২১ মে রবিবার বিদ্যালয়ে ক্লাসে ১০ম শ্রেনীর ২ছাত্র কমর উদ্দিন ও আবু বক্কর সিদ্দেক এর মধ্যে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা আপোষ নিষ্পত্তির লক্ষে গতকাল বিদ্যলয়ের হল রুমে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে এলাকার জন প্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্টিত হয়।

বৈঠক শেষে ফেরার পথে স্কুল গেইটে ২ গ্রামের লোকদের মধ্যে পূর্বের ঘটনার সূত্র ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্র ও ইউপি সদস্য পথচারী সহ ৫০জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রেরণ করা হয়েছে বলে আহতদের পরিবার সূত্রে জানায়। অন্যরা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরেছে।

ঘটনার সংবাদ উভয় গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজিত হয়ে সংঘর্ষের জন্য ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে। সংঘর্ষের জন্য তারা সেল, বল্মম, তীর ধনুক, লাটি সোটা, বিশেষভাবে তৈরী বুলেটপ্রুফ জেকেট ও মাথায় হেমলেট এবং পাথর ভর্তি বেগ পরিহিত শত শত ব্যাক্তি উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

এনিয়ে ২গ্রামবাসীর মধ্যে টান টান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আহতরা হলেন তিনপাড়া গ্রামের হাজী হাফিজ উল্লার ছেলে ৫নং ফতেপুর ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব, একই গ্রামের প্রকাশ সেক্রেকারীর ছেলে দোলোয়ার হোসেন, হেমু পাখি টিখি গ্রামের তজই মিয়ার ছেলে আবু মিয়া, ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ এর ছেলে মঞ্জুর আহমদ, তিনপাড়া গ্রামের আব্দুল মাল এর ছেলে মামুনুর রশিদ, হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র তিনপাড়া গ্রামের জয়নালের ছেলে রাশেল আহমদ, ফখরুল ইসলামের ছেলে আল-আমিন, আবু-বক্কর সিদ্দেক। অন্যান্য আহতদের নাম জানা যায়নি।

অপরদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত নিষ্পতির জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মাহমুদ ঘটনাস্থলে পৌছে সৃষ্ট ঘটনার নিষ্পত্তির লক্ষে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা অব্যহৃত রাখছেন।

এঘটনাকে নিয়ন্ত্রন এবং শান্তি শৃঙ্খলা বাজায় রাখার জন্য হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রঙ্গনে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ জাহিদ আনোয়ার, সেকেন্ড ইন কমান্ড প্রভাকর রায়ের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লামাশ্যামপুর হাউদপাড়ার লোকজন আপোষ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ গনের কাছে সম্মতি দিয়েছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *