রাবির অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম সাময়িক বরখাস্ত

আবু সাঈদ সজল, (রাবি সংবাদদাতা): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হল থেকে উদ্ধাদের ঘটনায় পরীক্ষক রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সচিব আনারুল হক প্রামাণিক। আনারুল হক বলেন, ‘ঘটনার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আবুল কালামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তবে শাহ মখদুম কলেজের প্রভাষক মাহমুদুল হাসানের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে সকালে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এ কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রক ড. তরুণ কুমার সরকার।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান বলেন, আমাকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে বিষয়টি জেনেছি তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কোন চিঠি দিয়ে আমাকে অবগত করানো হয়নি। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মফিজুদ্দিন ও শিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শক আকবর হোসেন।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয় মুন্নুজান হলের ডরমেটরিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ইসলামের ইতিহাস (২৬৮ নং কোর্ডের) উত্তরপত্র উদ্ধার করে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। পরে খাতাগুলো বোর্ডে নিয়ে যান তারা। খাতাগুলোর পরিক্ষক ছিলেন নিউ ডিগ্রি গভ. কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. আবুল কালাম।

সূত্রে জানা যায়, নিউ ডিগ্রি গভ. কলেজের শিক্ষক ড. আবুল কালাম বোর্ড থেকে মূল্যায়ণের জন্যে পাওয়া দুই বান্ডিল খাতা নিজে মূল্যায়ণ না করে শাহ্ মখদুম কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ও এমপি থ্রি’র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক মাহমুদুল আলমকে দেন। মাহমুদুল আলম আবার ওই খাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্রকে দেন।

ওই ছাত্র তা তার সহপাঠী এক ছাত্রীকে দিয়েছিলেন। ওই ছাত্রী মুন্নুজান হলের গণরুমে অবস্থান করতেন বলে সূত্রে জানা গেছে।  এদিকে খাতাগুলো উদ্ধারের পর ঘটনার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অধ্যাপক আবুল কালাম ও মাহমুদুল হাসানকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তলব করে। পরে তাদের দুজনকেই বোর্ডে মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *