চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা!

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০২ সালে নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেবার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠেছিল লঙ্কানরা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফলে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর আর কখনও চ্যাম্পিয়ন্স টফির ফাইনাল খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আগামী এক জুন ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের।

তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের আলোচনা এখন আসরের ফেভারিটদের নিয়ে। সেই তালিকায় ক্রিকেটপ্রেমীরা শ্রীলঙ্কাকে তো রাখবেই। কিন্তু ফেভারিটদের তালিকায় লঙ্কানদের দেখছেন না দেশটির প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড নিজেই! ‘বি’ গ্রুপে এই দলটিকে লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

একমাত্র পাকিস্তানই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কার চেয়ে। পাকিস্তান এই মুহূর্তে আট নম্বরে আর শ্রীলঙ্কা ছয় নম্বরে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর এবং ভারত তিন নম্বর দল। গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলানায় তারা যে পিছিয়ে আছেই বলে মত কোচ গ্রাহাম ফোর্ডেরও। তাই নিজেদের আন্ডারডগ মেনে নিয়ে অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।

লঙ্কান কোচ ফোর্ডের ভাষ্য, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে যাচ্ছি। যদিও মাঝে মাঝে এটা খুবই ভাল অবস্থান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারার সঙ্গে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার চামারা কাপুগেদেরা ফেরাতে ভাল একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে দলে।

আর এই দলটি নিয়ে যে কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা ফোর্ডের, ‘চমৎকার কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা শুধু যে ম্যাচটি সামনে আসবে সেটা নিয়েই ভাবব। একটি ছেড়ে পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তার কোন কারণ দেখি না। বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমান সময়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে গেছে অনেক কঠিন। প্রতিটি দলেই কিছু উচ্চ পর্যায়ের ভাল নৈপুণ্য দেখতে পাই আমরা।

আমাদের গ্রুপে যে প্রতিপক্ষরা আছে তাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দিতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হবে গতবারের শিরোপাজয়ী ভারত, ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে শীর্ষ দুটি দল।

সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে পারে, এমন ধারণাই করছেন অনেকে। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে নারাজ শ্রীলঙ্কার কোচ ফোর্ড। তিনি এগুতে চান একটা একটা করে ম্যাচ, ‘আমাদের এক সময়ে একটা ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হবে। আগেই পরের ম্যাচগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা ম্যাচই হবে খুব কঠিন।

আগামী ৩ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। এর প্রায় ১৫ দিন আগেই ইংল্যান্ডে এসেছে দলটি। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য এটা দারুণ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন ফোর্ড। এছাড়া ২৬ ও ৩০ মে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।

এটা আরও ফলপ্রসূ হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। এ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে দলের বোলিং বিভাগকে আরও শাণিত করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার এলান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)।

ইংল্যান্ডের পরিবেশের কথা বিবেচনায় রেখে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ মিটার উঁচু ভূমিতে ক্যান্ডির পাহাড়ী অঞ্চলে বিশেষ অনুশীলন করেছে লঙ্কানরা। অধিনায়ক ম্যাথুসও তাই দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই দিনকে দিন উন্নতি করছি। আমি নিশ্চিত ছেলেরা আসন্ন যে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এটা নিয়ে বাড়তি চাপে থাকার কিছু নেই।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *