সিলেটের খাদিমপাড়ার চকগ্রামে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ফের হামলা : আহত ১

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): সিলেট সদর উপজেলার খাদিম পাড়ার চকগ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে সোহেল আহমদ (৩৩), টেরাগ মিয়া (৫০), আব্দুল ‍মুতলিবের ছেলে নোমান আহমদ সেলিম (৪৫), মৃত আব্দুল মুতলিব কুটন মিয়ার ছেলে গিয়াস (৩৫), ফেরদৌস (৪০) পিতা অজ্ঞাতদেরকে আসামী করে মামলা দায়ের করায় আসামীরা ফের বাদীর পরিবারের উপর হামলা চালায়।

এতে আবারো সাইস্হা মিয়া আহত হয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দুইবার হামলার কারনে সাইস্হা মিয়ার অবস্হা গুরুতর। তাকে আহত অবস্হায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ৩য় তলার ১১ নং ওয়ার্ডের নিউরোসার্জারী বিভাগের ৩ নং ইউনিটে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেট শাহপরান থানার এসআই জয়ন্ত কুমার দে ও ৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফছর আহমদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ আহত সাইস্হা মিয়ার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিাবার রাত ১০ ঘটিকার সময়। সাইস্হা মিয়ার আত্বীয় সুত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে সাইস্হা মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে নিকটস্হ বাজারে যান। রাত ১০টার সময় তিনি ও তার ভাই মাসুম কাজ সেরে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলে একই এলাকার সালাম মিয়ার বাড়ির পিছনে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তোতা মিয়ার ছেলে সোহেল আহমদ (৩৩), টেরাগ মিয়া (৫০), আব্দুল ‍মুতলিবের ছেলে নোমান আহমদ সেলিম (৪৫), মৃত আব্দুল মুতলিব কুটন মিয়ার ছেলে গিয়াস (৩৫), ফেরদৌস (৪০) পিতা অজ্ঞাতসহ ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী সাইস্হা মিয়াকে ঘিরে ধরে।

এক পর্যায়ে সাইস্হা মিয়াকে প্রানে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে মাথায় কুপ দিলে সাইস্হা মিয়া মাটিতে পড়ে যান। পরে সন্ত্রাসীরা সাইস্হা মিয়াকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। সাইস্হা মিয়ার ভাই মাসুম সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেক রক্ষা করে দৌড়ে গিয়ে বাড়িতে খবর দিলে সাইস্হা মিয়ার আত্বীয় স্বজনরা ঘটনাস্হলে গিয়ে সাইস্হা মিয়াকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সাইস্হা মিয়ার মাথায় দায়ের তিনটি কুপ পাওয়া গেছে এবং তার পায়ের একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে বলে মেডিকেল সুত্র থেকে জানা যায়।এদিকে স্হানীয় কয়েকটি সুত্র থেকে জানা য়ায়, তোতা মিয়ার ছেলে সোহেল ও হেলালকে একটি নোহা ও একটি কার নিয়ে ঘটনার আগে ঘটনাস্হলে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যে গাড়ি গুলোর মালিক এরা নিজেই। এর আগে সোহেল মিয়া সাইস্তা মিয়া ও তার পুরো পরিবারকে প্রানে মেরে ফেলবে এমন ঘোষনা দেয় বলেও এলাকার কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান।

উল্লেখ্য,  ৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া চকগ্রামে বাড়ির রাস্তা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে গত ২২ এপ্রিল একই এলাকার সালাম মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। ঐ সালিশ বৈঠকে তোতা মিয়ার ছেলে সোহেল আহমদ  চেরাগ মিয়া, আব্দুল ‍মুতলিবের ছেলে নোমান আহমদ সেলিম, মৃত আব্দুল মুতলিব কুটন মিয়ার ছেলে গিয়াস ও ফেরদৌস মিলে সাইস্হা মিয়া ও সাইস্হা মিয়ার ভাই সেলিম মিয়ার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সাইস্হা মিয়াকে আহত করে। এবং বাড়ি ঘরে লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা।

ঐ ঘটনায় সাইস্তা মিয়াকে আহত অবস্হায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়িবে আসেন। এদিকে সেলিম মিয়ার স্ত্রী পারভীন আকতার বেবি সিলেট আদালত এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করলে আদালত থেকে সিলেট শাহপরান থানায় তদন্ত পুর্বক ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য প্রেরন করা হয়।

সিলেট শাহপরান থানা তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৮৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৫৪, ৫০৬, ৩৪১, ৪২৭, ১১৪ (৩৪) ধারায় ২৮ এপ্রিল সিলেট শাহপরান থানায় মামলাটি এফআইআরভুক্ত হয়। মামলা নং-১২। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা ফের সাইস্হা মিয়ার উপর হামলা চালায়। আহত সাইস্তা মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *