পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে আবাসিক বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন রাবির শিক্ষকরা

আবু সাঈদ সজল, (রাবি সংবাদদাতা): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক বাসা-বাড়িতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা। গত কয়েকদিনের মধ্যে  প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক এই আবাসন ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা যায়।

আবাসিক শিক্ষকদের অভিযোগ, ষাটের দশকে যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল সেভাবেই রয়ে গেছে আবাসিক বাসাগুলো। নষ্ট হয়ে গেছে পেইন্ট ও ফিটিংস। বাহির থেকে ভাল মনে হলেও ভবনগুলো পুরাতন হওয়ায় অনেক সময় ছাদ থেকে ঝুকিঁর মধ্যে আছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

তারা অভিযোগ করেন, ওয়াশ রুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর দূর্গন্ধের কারণে রুমের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এভাবে বসবাসে স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হচ্ছে আবাসিক শিক্ষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি অধ্যাপক বেতনের চল্লিশ শতাংশ বাসা ভাড়া বাবদ পেয়ে থাকে।

সেই হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে বাড়ি ভাড়া বাবদ তাকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। যা রাজশাহীর মত জায়গায় ব্যাপক ব্যয়বহুল। অথচ রাজশাহী শহরে এর চেয়ে কম দামে বাসা বাড়ি পাওয়া সম্ভব বলে জানান তারা। এদিকে বাড়ি ভাড়ার তুলনায় বাসার অবস্থা মানসম্মত না হওয়ায় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বারবার আবেদন করা হচ্ছে তবে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ বলে দাবি শিক্ষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষক আবাসিক এলাকা থেকে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে প্রায় ৩৯টি বাসা। এদিকে ছেড়ে যাওয়া বাসাগুলোতে শিক্ষকদের আবাসিকতা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নোটিশ দিলেও শিক্ষকদের তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানান বাসা বরাদ্দ কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের বাসাগুলোর অবস্থার প্রেক্ষিতে বাড়ি ভাড়া সম্পর্কে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন তারা। কিন্তু এখনো শিক্ষকরা বিষয়টির সুরাহা পায়নি। অন্যদিকে বাসাগুলো সংস্কারের জন্য প্রশাসের কাছে দাবি করলেও কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক শিক্ষক। অবশ্যই বাসা বরাদ্দ কমিটির কর্তৃপক্ষ জানালেন, বাসাগুলোতে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *