লাগামহীন ব্যর্থতা, শৃংখলা ভঙ্গ ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবি

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ‘বিতর্কিত’ এবং ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ উল্লেখ করে কমিটি বাতিলের দাবীতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট জেলার ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ্র এমন দাবী জানিয়েছন।

বিবৃতিদাতা নেতাকর্মীরা হলেন- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নিজাম উদ্দিন, হোসাইন আহমদ চৌধুরী, এমরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী, অসীম কান্তি কর, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন সাজু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব দাস, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মওদুদ আহমদ আকাশ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কনক পাল অরুপ, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, উপ প্রচার সম্পাদক আতিকুল ইসলাম ইমন, উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক কাওছার আহমদ, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফাইয়াদ আহমদ জামিল, উপ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক বকতিয়ার আহমদ অনি, সহ সম্পাদক রুবেল আহমদ, মাসুম আহমদ মাহি, সোহেল আহমদ, শরিফ আরাফাত নাজাত, সদস্য সৌরভ দাস, জয়াশীষ দাস লিটন, শামিম এমরাজ, তানজিম আহমদ, জাকির আহমদ প্রমুখ।

বিবৃতিতে নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। আমরা সুদীর্ঘদিন ধরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ এর কর্মি হিসেবে সকল সংকট এবং সাফল্যে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছি। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ধারাবাহিক অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, সেচ্ছাচারিতা আমাদের ব্যথিত করে। আমরা আদর্শিক অবস্থান থেকে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে আসছি।

অছাত্র, বিবাহিত, অনুপ্রবেশকারী হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত আসামীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর আমরা এর বিপক্ষে অবস্থান নেই। শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ জানাই। পরবর্তীতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা সমূহের কমিটি গঠনের অনিয়ম সেচ্ছাচারিতা ছিলো নজীরবিহীন।

উল্লেখ্য কোম্পানিগঞ্জ এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজে ছাত্রদল নেতা হক সুমনকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য জামিল আহমদকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জকিগঞ্জ উপজেলা তরুনলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করে কমিটি গঠন করে।

যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রচারিত হয়ে সংগঠনের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করে। এতে আরো বলা হয়-‘লাগামহীন ব্যর্থতা, শৃংখলা ভঙ্গ সেচ্ছাচারিতা সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের সুনামকে ক্ষুন্ন করছে। নৈতিক অবস্থান থেকে আমরা অপকর্ম আর অনিয়মের পক্ষাবলম্বন করতে পারি না। সংগঠনের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থেকে বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দারস্ত হয়েছি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত প্যাডে গত ১৭ জানুয়ারি, ১৮ই মার্চ, ২২ এপ্রিল তিন তিনবার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও জেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন অজুহাতে সম্মেলন করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং ব্যর্থ হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যের এমন নজীরবিহীন ইতিহাস কোন ইউনিটের আছে কিনা আমাদের জানা নাই।

সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সিলেটের রাজপথে মিছিল করেছে। বিভিন্ন উপজেলায় সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করলেও জেলা ছাত্রলীগ তাতে কর্ণপাত করেনি। জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার সেচ্ছাচারিতা এবং সংগঠনকে জিম্মি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের যে পায়তারা তৃণমূল ছাত্রলীগ কখনই মেনে নিবে না।

আমরা তৃণমূল ছাত্রলীগের গণদাবীর প্রতি একাত্মতা পোষণ করে অবিলম্বে বির্তকিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবী জানাই। বিবৃতে নেতাকর্মীরা আরো বলেন- ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিপ্লবী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন ভাইয়ের প্রতি আবেদন কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্যকারী, বিতর্কিত, ব্যর্থদের কবল থেকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করবেন।

ছাত্রলীগ কোন অপশক্তির কাছে কুক্ষিগত থাকতে পারে না। আমরা আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে ছাত্রলীগের সকল নিবেদিত এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অন্যায় ও অপকর্মের জবাব দিতে প্রস্তুত। দুর্দিনে হালধরা, যোগ্য ও ত্যাগীদের নিয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক ভাবে আরও গতিশীল হবে।

This website uses cookies.