রাবির আবাসিক হল গুলোতে নামমাত্র দায়িত্বে প্রাধ্যক্ষগন

আবু সাঈদ সজল, (রাবি সংবাদদাতা): বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রাধ্যক্ষগন  ‘সহযোগী হ্যান্ড’ হিসেবে কাজ করে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ এখানকার আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, রাবি’র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাই হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলে বর্তমানে ৬৯ জন আবাসিক শিক্ষক রয়েছেন।

তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল, শাহ্ মখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, সৈয়দ আমীর আলী হল, মাদার বখ্শ হল, জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে চার জন করে আবাসিক শিক্ষক আছেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, মতিহার হল, শহীদ শামসুজ্জোহা হল ও মন্নুজান হলে পাঁচ জন করে, শহীদ হবিবুর রহমান হলে ছয় জন এবং রোকেয়া হল, তাপসী রাবেয়া হল ও বেগম খালেদা জিয়া হলে তিন জন করে আর রহমতুন্নেসা হলে আছেন দুই জন আবাসিক শিক্ষক। বিভিন্ন মেয়াদে এসব শিক্ষক বদল হয়ে আবার নতুন মুখ আসে। তিন বছরের বেশি কাউকে এ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় না।

এছাড়া ছয়টি ছাত্রী হলে একজন করে সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা আছেন। তবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক নন, বরং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা প্রদান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, পত্রিকা কক্ষ, হল লাইব্রেরির দেখাশোনা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন, হলের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, হলের ডাইনিং-এ খাবারের মান পর্যবেক্ষণ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার দায়িত্ব থাকে আবাসিক শিক্ষকদের। এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আবাসিক শিক্ষক।

যদিও রাবির বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক শিক্ষকরা সময়মতো অফিসে আসেন না। তাদের কালেভদ্রে দেখা যায়। সংশি¬ষ্ট হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কথা থাকলেও তা পালনে তৎপরতা দেখা যায় না শিক্ষকদের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের সুস্থতা নিশ্চিতের বিষয়টি বিবেচনা করে হলের ডাইনিংয়ে খাবার মান পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও সেদিকেও যেন কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের।

রাতে আবাসিক শিক্ষকদের হলে থাকার কোনও নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে রাবি প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘আবাসিক শিক্ষকদের রাতে হলে থাকার জন্য কক্ষ বরাদ্দ করা আছে। কিন্তু তারা রাতে থাকতে চান না। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সেই পরিবেশ নেই। কারণ শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ বিষয়কে ঘিরে মারামারি এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর শুরু করে, এটা শিক্ষকরা মেনে নিতে পারেন না।

আবাসিক শিক্ষকের ব্যাপারে রাবি শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানালে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান অধ্যাপক মোস্তফা তরিকুল আহসান। এদিকে সংশিষ্টরা বলছেন, যেহেতু হলগুলোর প্রাধ্যক্ষের অধীনে আবাসিক শিক্ষকরা থাকেন, তাই প্রাধ্যক্ষ ‘কঠোর’ থাকলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। এছাড়া আবাসিক শিক্ষকদের সম্মানী ভাতাও খুবই নগন্য। এ কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *