সকালে ঘুম থেকে উঠুন : দিনটাই ভালো যাবে

প্রথম সকাল ডটকম: ঘুম মানুষের শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই উপকারী ও একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু ঘুমের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয় তবে সেটা উপকারের স্থলে ক্ষতিরই কারণ হয়। একই সঙ্গে দেরি করে ঘুম থেকে উঠাও শরীরের জন্য হানিকর।

তাই পরিমাণ মতো ঘুম ও সময় মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়া আপনার দিনটাকে আরও সুন্দর ও অ্যানার্জেটিক করে দিতে পারে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে শুধু শরীরই নয়, বরং মনও ভালো থাকে।

এছাড়া দিনের শুরুটাও করা যায় ঠিকঠাকভাবে। সকালের বাতাসটা থাকে নির্মল, বিশুদ্ধ- যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সকালের বাতাসে ধূলোবালি অনেক কম থাকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠার কিছু উপকারিতা:- ১. সকালের খাবার: দিনের কাজ শুরুর আগে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হল সকাল বেলার খাবার। সকালে ঘুম উঠে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে কাজ শুরু করতে পারলে দিনের কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। আমরা অনেকেই অলসতা করে দেরিতে ঘুম থেকে উঠি, ফলে সকালের নাস্তা দুপুরে করা হয়- যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

২. ব্যায়াম: নিজের শরীরই যদি ঠিক না থাকলো তাহলে এতো কাজ-কর্ম, টাকা-পয়সা ইত্যাদি দিয়ে আর কি লাভ? তাই নিজের শরীরকে ফিট/ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমান কায়িক শ্রম অত্যাবশ্যক। যা আমরা বেশিরভাগ মানুষই এড়িয়ে চলি। শেষে শেষ বয়সে লাঠি নিয়ে হাঁটতে বের হই। বলছি না শেষ বয়সে হাঁটাচলার/ব্যায়ামের দরকার নাই। তবে ভাবুন, তরুন বয়সের আপনার ব্যায়ামের উপকারিতা বা প্রয়োজনীয়তা কতোখানি! সুতরাং সকালে ঘুম থেকে উঠে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ব্যায়াম/কায়িক শ্রম করা।

যারা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করেন তারা সারাদিন ঝরঝরে থাকেন এবং রাতেও খুব ভাল ঘুমাতে পারেন। ৩. সজীব ও বিশুদ্ধ বায়ু: সকালে ঘুম থেকে উঠার আরেকটি লাভের দিক হল বিশুদ্ধ বায়ু। সারাদিন মানুষের চলাফেরা ও কলকারখানা খোলা থাকে বলে, দিনে বাতাসে প্রচুর রোগ-জীবাণু থাকে। কিন্তু ভোরের বায়ু থাকে বিশুদ্ধ।

ফলে আপনি নিঃশ্বাস নেয়ার সময় বিশুদ্ধ বায়ু শরীরের ভেতরে নিতে পারছেন। ৪. কাজে মনোযোগ: সকালে ঘুম থেকে উঠার ফলে আপনি হাতে অনেক সময় পাবেন এবং আরামে মনোযোগ দিয়ে সকালের সব কাজগুলো শেষ করতে পারবেন। অফিসে যাওয়ার সময়ও থাকবে যথেষ্ট। ফলে সেখানে সময়মতো পৌঁছতেও পারবেন।

অথচ দেরিতে উঠলে কোনো কাজই ঠিকঠাক করতে পারবেন না। মাঝরাত পর্যন্ত কাজ করেও দিনের কাজ শেষ করতে পারবেন না। আর আপনার কাজের পারফরমেন্সও সেরকম ভালো হবে না। ৫. পড়াশুনা: ভোরে ঘুম থেকে উঠলে শরীর ও মন দুটোই ফ্রেস থাকে, ফলে আপনি ফ্রেস মনে পড়াশুনা করতে পারবেন। সকালে পড়লে অন্য সময়ের থেকে তাড়াতাড়ি মুখস্ত হয়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

যেহেতু আমাদের ব্রেন সারারাত বিশ্রামে থাকে, তাই সকালে ব্রেইনের দক্ষতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। তাই পড়া খুব দ্রুত মুখস্ত হয়। শুধু এটুকুই নয়, সকালে ঘুম থেকে উঠার মধ্য দিয়ে আপনি একটি দৈনন্দিন নিয়মে আপনাকে পরিচালনা করতে পারবেন। আর নিয়মানুবর্তিতা তো সফলতার চাবিকাঠি। আপনি অনেক বেশি অ্যাক্টিভ হবেন এবং অনেক অ্যানার্জি থাকবে আপনার মাঝে। অতএব সকালে ঘুম থেকে উঠুন, সবদিক থেকে ইতিবাচক থাকুন।

This website uses cookies.