খানসামার কৃষকরা ধান চাষ কমিয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে

তরিকুল ইসলাম চৌধুরী, খানসামা(দিনাজপুর): দিনাজপুর খানসামা উপজেলায় বারো মাসেই ভট্টা আবাদ হয়। ধান চাষ কমিয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে খানসামার কৃষকরা। অল্প খরচে বেশি লাভ করছে ভুট্টা চাষে।

খানসামা উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ কৃষক ব্যস্ত ভুট্টার আবাদ ও পরিচর্যা নিয়ে। কৃষকের সাথে মাঠ পর্যায়ে কথা বললে জানা যায় ভুট্টা আবাদে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। বোরো ধানের আবাদের তুলনায় সেচ খরচ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, কামলার পাইট(শ্রমিক) খরচ সহ আনেক কম।

সম্প্রতি খানসামা উপজেলায় স্বরেজমিনে দেখলে চোখে পড়ে শুধু ভুট্টা ক্ষেত আর ভুট্টার ক্ষেত। যা নজর কেড়ে নেয়।গত বছর যে জমিগুলোতে বোরো ধান আবাদ করা হত বর্তমানে তা এখন ভুট্টা ক্ষেত।সবজে সবুজে ভরে গেছে ভুট্টার ক্ষেত। ৪নং খামারপাড়া ডাঙ্গা পাড়া গ্রামের কৃষক মো: দুলাল চৌঃ, তিনি বলেন ভুট্টা আবাদ বোরো ধানের চেয়ে খরচ অনেক কম।

ভুট্টার চাহিদাও অনেক বেশি। বিঘা প্রতি ভুট্টা আবাদে খরচ হয় কামলার পাইট সহ ছয় হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা। যা হাল চাষ সহ লোক দিয়ে ভুট্টার বীজ বপন, থেকে মোচা ভাঙ্গা পর্যন্ত খরচ হয়। বিঘা প্রতি ভুট্টা ভালো ফলন হলে ২৫ মন থেকে ৩০ মন সুন্দর চলে আসে। ২নং ভেড়ভেড়ীর কালু মোঃ গ্রাম: হোসেনপুর তিনি বলেন মন পাঁচ শত টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গত বছরে বিক্রি হয় এবারও এরকম বাজার থাকতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এজামুল সাহেবের কার্য্যালয়ে মত বিনিময়ে জানা যায় যে এ বছর ৪৫৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন ছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৫১১৫ হেক্টর জমি।গত পাঁচ বছরের তুলনায় অনেক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।গত বছরের তুলনায় অর্জিত প্রায় ৬.৫০ গুন বেশি। ভুট্টা কৃষক এক বিঘা জমির ভুট্টা মাড়াই করে ভুট্টা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে,তেমনি আবার ভুট্টার মোচা সহ ভুট্টার গাছ বছরের রান্নার জ্বালানী যোগান দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন ধানের পরেই স্থান ভট্টার।ভুট্টা লাভবান ফসল, ভুট্টার সব উপাদান কাজে লাগে। ধানের তুলনায় সেচ খরচ, সার খরচ ও অন্যান্য খরচ কম। ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষ সহজ এবং লাভ জনক। আগামী দিনে ভুট্টা চাষীরা আরো বেশি করে ভুট্টা চাষ করে স্বাবলম্বি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *