বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে স্বপ্নে মেতে উঠবে কাল

প্রথম সকাল ডটকম: চার রঙের নতুন বইয়ের মোড়কে আগামীকাল (রোববার) সারাদেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হবে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব। দেশব্যাপী শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে নতুন গন্ধে, নতুন স্বপ্নে মেতে উঠবে।

 জানা গেছে, সকাল সাড়ে নয়টায় আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সকাল ১০টায় অর্থমন্ত্রী এমএ মুহিত এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন।

এদিকে শনিবার প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় গণভবনে ২০১৭ সালের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলো জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। জানা গেছে গণভবণে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি কর্মকর্তাদের সন্তানদের উপস্থিত করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দফতরেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১ জানুয়ারি (রোববার) নির্ধারিত আয়োজন অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯ টায় আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকার ৩১টি স্কুলের ৫ হাজারের অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাদের বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২ পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। এছাড়া দেশের মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ উৎসব পালিত হবে।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উৎসবে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সম্বলিত মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন এবং সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালেই প্রথম প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশে ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরী) শিক্ষার্থীরদের মঝে ৮ ধরনের পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন ইবতেদায়ী, দাখিল, দাখিল কারিগরি, এসএসসি ভোকেশনাল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে এসব বই বিতরণ করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *