৩১ ডিসেম্বর ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের উদ্বোধন

7575প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: অবশেষে ‘ডটবাংলা’ ডোমেইন উদ্বোধনের সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ ডোমেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে সময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আজ টেলিফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেলিযোগাযোগ সচিব মো. ফয়জুর রহমান খান। এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের উদ্বোধনের তারিখ নিধার্রণ করেছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তবে ওই সময়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কারণ দেখিয়ে সময় পিছিয়ে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ে জানা যায়, ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের অনুমোদনই পায়নি বাংলাদেশ। সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে গত ৫ অক্টোবর ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নম্বরস (আইসিএএনএন) বা আইকান কর্তৃপক্ষ এই ডোমেইন বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ দেয়।

তখন জানানো হয়েছিল এ বছর ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডোমেইনটি উদ্বোধন করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সময় না পাওয়ার কারণে এদিনও ডোমেইনটি উদ্বোধন করা যায়নি। অবশেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ডোমেইনটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। জানা গেছে, ২০১১ সালে ডোমেইনটি ব্যবহারের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত করতে না পারায় চার বছরেও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

ফলে ‘ডটবাংলা’ ডোমেইন বাতিল হয়েছে বলে গত বছর জুন মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ‘ডটবাংলা’ ডোমেইন কার্যকর করতে সরকার উদ্যোগী হয়। এরপর ওই মাসেই অনুষ্ঠিত ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) সভায় বিটিসিএলকে ডটবাংলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ডোমেইনটির বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে ডোমেইন নেম সিস্টেম পরিচালনাকারী সংস্থা ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারসকে (আইসিএএনএন) চিঠি দেয় বিটিসিএল।

বিটিসিএলের চিঠির জবাবে ডোমেইনটি বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ রয়েছে বলে জানায় আইসিএএনএন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডোমেইনটি চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করে বিটিসিএল। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তা ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বর দুই দফা সময় দিয়েও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের প্রথম কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল ডোমেইন (সিসি-টিএলডি) হলো ‘ডটবিডি’। এরই মধ্যে এটি চালু করা হয়েছে। বিটিসিএল এ ডোমেইনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে ‘ডটবিডি’ ডোমেইনের সেবা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ব্যবহারকারীদের। দেশের দ্বিতীয় সিসি-টিএলডি হলো ‘ডটবাংলা’।

২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকার ‘ডটবাংলা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আইসিএএনএনের কাছে আবেদন করে। বিটিআরসির পক্ষে সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক রেজাউল কাদের এ আবেদন করেন। পরের বছরের ৩০ মার্চ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে তাদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে ডোমেইন নেম নিবন্ধন শুরু করেছে।

এক্ষেত্রে ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে প্রচলিত ইংরেজি ভাষায় লেখা ডোমেইনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ভাষায় লেখা ডোমেইন ব্যবহার করা যায়। পুরো ডোমেইন নেম সিস্টেম মূলত এএসসিআইআই ক্যারেক্টার সেটের ওপর নির্ভর করে, যেটা ইংরেজি বর্ণমালার সঙ্গে কিছু বিশেষ ক্যারেক্টার মিলিয়ে শুধু ১২৮টি ক্যারেক্টার এনকোড করতে পারে। ফলে ডোমেইন নাম হিসেবে অন্য কোনো ভাষার কোনো বর্ণমালা বা শব্দ ব্যবহার করা যায় না।

এ সমস্যা সমাধানে আইসিএএনএন ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেম ইন অ্যাপ্লিকেশনস (আইডিএনএ) নামে একটি পদ্ধতি চালু করে। এটি ইউনিকোড ক্যারেক্টার সেট সমর্থন করে, যাতে এএসসিআইআইসহ ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি ক্যারেক্টার রয়েছে। আর ইউনিকোড স্ট্রিংগুলো পুনি কোড নামে একটি এনকোডিংয়ের মাধ্যমে বৈধ ডিএনএস ক্যারেক্টার সেট বা এএসসিআইআই ক্যারেক্টার সেটে পরিণত হয়।

সাধারণ ডোমেইন নামে শুধু ইংরেজি বর্ণমালার বর্ণগুলো ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট ভাষার বিভিন্ন বর্ণ নিয়ে গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেম। ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নামগুলো পুনি কোড এনকোডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাসকি স্ট্রিং হিসেবে ডোমেইন নেম সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রসঙ্গত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের প্রশাসনিক এবং বিভাগের পক্ষে বিটিসিএল কারিগরি দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত সরকারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিয়েরালিওন ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের জন্য আবেদন করেছিল। ‘ডটবাংলা’ চালুর ফলে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ মাতৃভাষায় ইন্টারনেটে প্রবেশ ও ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধিসহ বাংলা কনটেন্ট তৈরি উৎসাহিত হবে। এ ছাড়া ‘ডটবাংলা’ ডোমেইন সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে জানায় টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ডটবাংলায় ডোমেইন পাওয়া যাবে ১ হাজার টাকায়।

এ টাকা বছরপ্রতি ৫০০ টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি হিসেবে এককালীন পরিশোধ ধরা হবে। অর্থাৎ ডোমেইন নিতে হলে প্রথমেই দুই বছরের ফি দিতে হবে। বিটিসিএলের ১৪৫তম বোর্ডসভায় ‘ডটবাংলা’ ডোমেইনের এ মূল্য নির্ধারণ অনুমোদন করা হয়। এতে বিশেষ শব্দের ডোমেইনের ক্ষেত্রে ফি ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ ডোমেইনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সরকারের বিভিন্ন দফতর, কোম্পানি ও সংস্থাকে।

মেয়াদ শেষে ডোমেইনের নবায়ন ফি দিতে হবে বছরপ্রতি ৫০০ টাকা। কেউ ডোমেইন বিক্রি করলে তাতে মালিকানা পরিবর্তনের ফি রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ডোমেইন কেনার সময় যদি কেউ একসঙ্গে পাঁচ বছর ও ১০ বছরের ফি পরিশোধ করেন, সে ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০ ও ৩০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়নের ক্ষেত্রে একমাস ও তিনমাস সময়ের বিলম্বে ৫০০ ও ১ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। আর তিন মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে ডোমেইন হারাতে হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *