বাগেরহাটের বজ্রপাতে নিহত ৪

0 (2)

প্রথম সকাল ডটকম (বাগেরহাট): বাগেরহাটের  ফকিরহাট ও কচুয়ায় ভয়াবহ মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতে ৪ জন নিহত হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত বাগেরহাটের এলাকায় বজ্রপাতের এই ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় ঝড়, ভারি বর্ষন সহ অবিরাম ভয়াবহ মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের মত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ অব্যাহত থাকে।

মেঘের গর্জনের বিকট শব্দে আতংকিত হয়ে রোববার ভোররাতে ফকিরহাটের হোচলা গ্রামে মতলেব শেখের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৬০) মারা গেছেন। এছাড়া শনিবার বিকেলে ডহরমৌভোগ গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় মহানন্দ অধিকারির পুত্র হেস অধিকারি (৩৫) এর মৃত্যু হয়েছে।

একইদিন দুপুরে ফকিরহাট সিমান্তবর্তী কেন্দুয়া বিলের একটি মৎস্য ঘেরে বজ্রপাতের ফলে ঘের কর্মচারী রামপালের আজম শেখ (৪৮) নিহত হয়েছে। এসময় তার সাথে থাকা অপর কর্মচারী চালনা এলাকার শেখ খানজাহান আলী আহত হয়ে খুমেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অপরদিকে কচুয়ায় বজ্রপাতে মনোয়ারা বেগম নামের এক গৃহ বধুর মৃত্যু হয়ছে।

পুলিশ জানায়, কচুয়া উপজেলার কচুয়া গ্রামের বিশিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা আঃ রশিদের মেয়ে মনোয়ারা বেগম (৩৫) শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষন কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করে সকাল ৬টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নিজ ঘরের উত্তর-পূর্ব দিকে ১০গজ দুরে  বাথরুমে বের হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকিয়ে  ১টি বজ্রপাত তার পার্শবর্তী ১টি মেহগনী গাছে পড়লে মনোয়ারা বজ্রপাতের উত্তাপে ঐ জায়গায়ই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু বরন করে। মৃত মনোয়ারা বেগম পিরোজপুরের সরুফকাঠী  গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী।

মৃত মনোয়ারা ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তান  নিয়ে কচুয়ায় বাবার বাড়ির এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এদিকে, প্রবল বর্ষনে রামপালে ব্যপক জলাবদ্ধতা জন জীবনে চরম দূর্র্ভোগ বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রবল বর্ষনে রামপাল উপজেলা সদরসহ বিভিন্ অঞ্চলে ব্যপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জন জীবনে দেখা দিয়েছে চরম দূর্ভোগ। রামপাল সদর মেইন রোড উপজেলা চত্ত্বর, রামপাল স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ রোড, কামরাঙ্গা এলাকা, সেটেলমেন্ট অফিস চত্ত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

কোন কোন জায়গায় অপিস চত্ত্বর ছাপিয়ে ভিতরে পানি ঢুকেছে। এর ফলে জন সাধারণের সলাচল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। উপজেলা সদও সংলগ্ন শ্রীফলতলা এলাকার ইটের ছলিং রাস্তাগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার শত শত ঘর বাড়ী পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জন সাধারণের জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

একই সাথে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। এবং লবনাক্ততার ব্যপক বিস্তার ঘটছে। রামপাল সদরে সুষ্ঠ ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে জলাবদ্ধতার সমস্যা চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়া বছরের পর বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা চলে আসলেও দাউদখালীসহ বিভিন্ন তীরবর্তী জনপদগুলোতে গ্রাম রক্ষা বাঁধ তৈরীর কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় জনগণের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

রামপাল সদর ইউনিয়ন ছাড়াও উজলকুল, রাজনগর, বাইনতলা, বাঁশতলীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চলমান জলাবদ্ধতা দেখে ভরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি কি আকার ধারণ করতে পারে সে ব্যপারে জন মনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, এলাকা রক্ষা বাঁধসহ পানি নিষ্কাশনে নদী খাল ও জলাধারগুলোর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *