যুদ্ধাপরাধীদের দাফনও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়!!!

সিরাজী এম আর মোস্তাক: ১১ই মে, ২০১৬ ইং তারিখে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামীকে প্রাণভিক্ষা আবেদনের যথেষ্ট সময় না দিয়ে রাতারাতি ফাঁসি কার্যকরের পর সম্পুর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় তার নিজ এলাকায় মা-বাবার কবরের পাশে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ছবিতে দেখুন, কতো সুন্দর এসি সমৃদ্ধ আধুনিক এ্যাম্বুলেন্স! সামনে-পিছে কতো গাড়ী! কতো নিরাপত্তা! স্বাধীনতার দীর্ঘ পয়তাল্লিশ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করেও যুদ্ধাপরাধীকে এমন মর্যাদা দেয়া হচ্ছে।

কোটাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্য়াদায় দাফনের নামে কয়েকজন পুলিশ দ্বারা কবরে লাথি মারানোর চেয়ে এর মূল্য কি বেশি নয়? ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য নিরাপত্তা ব্যুহ তৈরী করেছে। এটা কবরে স্যালুট আর বুটের গুতার চেয়ে অনেক দামী নয় কি? কার কপালে জোটে এত সম্মান!

এটা কি আদৌ কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রাপ্য হতে পারে?  ১৯৭১ সালে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী ছিল পাকিস্তানী সেনারা। তাদেরকে বাদ দিয়ে এদেশের যুদ্ধবিধ্বস্থ, অসহায় ও নিরূপায় মানুষদেরকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করার ফলেই কি এমন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা? কেন এত সম্মান? কেন নিশি রাতেও হাজার হাজার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্ব পালন? উক্ত কর্মকর্তাগণকে দিনের বেলায় নিশ্চয়ই তাদের কর্মস্থলে পাওয়া যাবেনা।

তাহলে হিসাব কী দাঁড়ালো? এখানেই শেষ নয়। অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী সাজার পর সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, যাদের আশে-পাশে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। আবার সম্পুর্ণ সরকারি খরচে এবং প্রশাসনের সাহায্যেই কবর খোঁড়ার ব্যবস্থা। জানাযার ব্যবস্থাও তাই। এগুলো কি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নয়? আদৌ একজন যুদ্ধাপরাধী এমন মর্যাদা পেতে পারে কী? লেখক:-এ্যাডভোকেট, ঢাকা। mrmostak786@gmail.com. প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার জন্য প্রথম সকাল ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

This website uses cookies.