চন্দ্রমুখী

 

 

 

 

 

 

আবদুর রহিম রবিন

চন্দ্রাবতি চাঁদবদনী
চন্দ্রমুখী চাঁদোয়া
চাঁদমুখে অপলক চন্দ্রহাসি
পূলকে দোলায় হিয়া,
ঠোটের কোণে হাসে ঐশী
আলোকরাঙ্গা মৃদুল পায়,
ভালো লাগার গা মাড়িয়ে
উদোম গায়ে হেটে যায়।
চাঁদনি ঝরা চাঁদবদনী
হাসিতে রাঙ্গায় রজনী
লজ্জারাঙ্গা মূর্ছনায়,
একান্ত অজান্তে
চাহনির হাতছানিতে
আতনুমন যায় ছুঁয়ে
বিতৃঞ্চ শিহরণ দিয়ে
প্রণয়ে মন বান্দিয়া।
চাঁদের হাসি চাঁদমুখে
চন্দ্রমুখী চাঁদোয়া।

মুখখানিতে ফুলকুড়িতে
মন গহিনের ঘাসমাটিতে
অনুরাগের অনুভূতিতে
মাঝরাত্রির প্রাণ জুড়িয়ে
গগনের নীল ছাপিয়ে
জোছনা রাঙ্গা পূর্ণিমা
শান্ত নিবিড় স্নিগ্ধতায়!
মিষ্টি মম মুখশ্রি জুড়ে
প্রণয়োশান্ত পারাবারে
তীর ভাসানো ঊর্মিচূড়ে
ভেজা রোদ্দুরের খেলা,
বুক মিশিয়ে বক্ষভূমে
শুভাশীষে কপোল চুমে
কখন যে ফুড়োয় বেলা
লাবন্য ঝরা মমতায়।

ফুল পাপড়ির অনুরাগে
পথভোলানো সম্মোহনে,
বুকের অধীর স্পন্দনে
অনুসৃত পরাগায়নে,
নবাংকুরের স্বপ্ন চোখে
আলীঙ্গনে পরাগ মেখে
উদোম গায়ের স্বর্গসুখে
ইচ্ছেরা সব মিশে থাকে
চাঁদ-চাহনির চারুবাঁকে।
ছায়া সুনিবিড় বন মাড়িয়ে
বহতা তটিনী মৃদু লয়ে
ছাপিয়ে মুখর কলতান,
শিহরণের সম্মোহনে
জোয়ারের জাগা তনুমনে
প্রাণ খুঁজে পায় প্রাণ।
চন্দ্রস্মিতি রেশমি ছোঁয়ায়
সুস্মিতার কপোল চুমে যায়
স্বপ্নচারী কুসুমকলির তান।
ইচ্ছেরা সব বাউন্ডেলে
একটুসখানি সুুযোগ পেলে
বসন বাঁধন খুলে
মেঘের রেণু ছড়ায়,
আকাশনীলিমার প্রণয়োচ্ছ্বাস
চন্দ্রমুখে ঝরিয়ে উদ্ভাস
জল ছুঁয়ে যায় মোহনায়,
চন্দ্রস্মিতির রেশমি ছোঁয়া
ললাট-লাবন্য চুমে যায়।

নিস্পাপ মধুর মুখখানিতে
জোছনার আচঁল পেতে
চন্দ্রালোকের হাতছানিতে,
সাগর সঙ্গমে মধুচন্দ্রিমা,
চন্দ্রমুখীর চাঁদহাসিতে
প্রেমাস্পদ রংতুলিতে
প্রকৃতি নিপুন হাতে
রাঙ্গায় হৃদ্য চাঁদিমা।
আলতা রাঙ্গা মৃদুল পায়
চাঁদমুখে চাঁদ উদোম গায়
মনটাকে যায় রাঙ্গাইয়া,
চন্দ্রাবতি চাঁদবদনী
চন্দ্রমুখী চাঁদোয়া!

This website uses cookies.