ফুলবাড়ীতে লাশ রেখে আপোষের চেষ্টা : ১৭ ঘন্টা পর লাশ দাফন

প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): ভাতিজা আব্দুল আলিমের লাঠির আঘাতে ফুফা আব্দুল বাতেন (৪৫) নিহত হওয়ায় লাশ রেখে আপসরফার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ১৭ঘন্টা পর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ওই লাশ দাফন করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে। নিহত আব্দুল বাতেন ওই গ্রামের মৃত সোবহান আলীর ছেলে। তবে সে দীর্ঘ ১৬বছর পূর্বে কুড়িগ্রামের রাজারহাট চকনাক কাটি গ্রাম থেকে এসে ওই গ্রামের সামসি আরাকে বিয়ে করে বসবাস করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সামসি আরা নিজ ভাতিজাকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার (২২এপ্রিল) সকালে হাঁসের বাচ্চা বাড়ির ভেতরে ঢোকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগড়া গ্রামের আব্দুল বাতেনের সাথে তার স্ত্রীর ভাই আব্দুল হামিদ ও তার ছেলে আব্দুল আলিমের ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে আব্দুল আলিম (২০) তার ফুফু আব্দুল বাতেন (৪৫) কে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।

ওই অবস্থায় আব্দুল বাতেনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধিন থাকার পর গত রবিবার (২৪এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টায় মৃত্যু ঘটে আব্দুল বাতেনের। এদিকে রংপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ নিহত আব্দুল বাতেনের লাশ ময়না তদন্ত শেষে গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন। লাশ ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় গ্রামে আসে।

নিহতের বড়ভাই হযরত আলীর নির্দ্দেশে তার কয়েকজন আত্মীয় লাশ দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে গেলে তার বোন জামাতা নূরুজ্জামান কবর খুঁড়তে বাঁধা দিয়ে আগে বিষয়টি নিয়ে আপসরফার প্রস্তাব দেন। আপসরফার আগে লাশ দাফন করা হবে না বলেও তিনি গ্রামবাসীকে জানিয়ে দেন।  এরই প্রেক্ষিতে সন্ধ্যা ৭টায় বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আপসরফার বৈঠক বসায় গ্রামবাসীসহ নিহতের পরিবারের লোকজন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সাজেদুর রহমান সাজু, পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল মিয়া, সাবেক মেম্বার শফিকুল ইসলাম শফি, ইউপি চেয়ারম্যানের ছোটভাই লিটন চৌধুরসহ অন্তত ৪শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রামবাসীসহ নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান, মেয়ে বিজলী আরা, বড়ভাই হযরত আলী, বোন জামাতা নূরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন।

রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোন সমাধান না হওয়ায় বৈঠকের লোকজন স্থান ত্যাগ করলে বৈঠক ভেস্তে যায়। দাফনের অপেক্ষায় লাশ পড়ে থাকে ওই অবস্থায়। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় সকাল ১০টা পর্যন্ত আপসরফার চেষ্টা করা হলেও সেটিও ব্যর্থ হলে বাধ্য হলে দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা পর বেলা ১১টায় বাধ্য হয়ে লাশ দাফন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, লাশ দাফন করেও আপসরফার চেষ্টার জন্য বৈঠক করা যেতো।

কিন্তু সেটি না করে লাশ রেখে বৈঠক করা এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়ার্ড মেম্বার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, নিহতের পরিবারের অনুরোধে আপসরফার চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হলে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মেয়ে বিজলী আরা বলেন, আমরা আপসরফার জন্য গ্রামবাসীকে দায়িত্ব দিলেও গ্রামবাসী সেটি না করে বিষয়টিকে নিয়ে হযবরল করে ফেলেছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোকছেদ আলী বলেন, আব্দুল বাতেন নিহত হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী সামসি আরা একজনকে আসামী করে গত সোমবার (২৫এপ্রিল) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং ১৪।

This website uses cookies.