কুরআনে হাফেজ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই সহোদর

প্রথম সকাল ডটকম (চাঁদপুর): ছোটবেলা থেকে কুরআন তেলাওয়াত শোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ তাদের। তাই যেখানেই কুরআন তেলাওয়াত হত সেখানেই ছুটে যেত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জমজ সহোদর।

জন্ম থেকেই ভালভাবে পৃথিবীর আলো দেখেনি জমজ সহোদর হাসান-হোসাইন। আর সেই আগ্রহ থেকেই ৭ বছর বয়সেই তাদের ভর্তি করা হয় হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। বছর দুই না পেরোতেই কোরআনে হাফেজ হলেন এই দুই সহোদর।

যেমন কণ্ঠস্বর, তেমন চেহারা তাদের। যেন দু’টি ফুটন্ত গোলাপ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই জমজ সহোদরের সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে মুগ্ধ অনেকেই। জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রামের কামিন উদ্দিন ছৈয়াল বাড়ির মো. আলমগীর হোসেনের জমজ এ দু’সন্তান।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়। কুরআনের প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা-মা তাদের হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আলমগীর হোসেন তার দু’জমজ সন্তান হাসান-হোসাইনকে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ মো. নজরুল ইসলামের কাছে কুরআন শিক্ষার জন্য নিয়ে যান। এরপর তারা স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই কোরআনে হাফেজ হন।

তারা শুধু কুরআনের সূরাগুলো মুখস্তই করেনি, শুদ্ধ তেলাওয়াতেও তারা পাক্কা হাফেজ। তাদের বয়স এখন ৯ বছর। তারা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে কুরআন তেলাওয়াত শোনাচ্ছেন। সম্প্রতি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের বার্ষিক মাহফিলে তাদের কুরআন তেলাওয়াত সবাই মুগ্ধ হন। পুরস্কৃতও করা হয় তাদের। হাফেজ হাসান-হোসাইন ভবিষ্যতে বড় আলেম হতে চায়।

ফলে তারা কওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হবেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাসান-হোসাঈন দু’জনই আমার ছাত্র। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তারা সহজেই পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন। তারা দুইজন মেধাবী। ওরা আগামী দিনে আরো ভালো করবে এমনটাই আশা করি।

This website uses cookies.