‘বিছানাকান্দিতে এখনো সেভাবে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি’

প্রথম সকাল ডটকম: রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে পর্যটন খাতের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জাতীয় আয়ের নতুন গন্তব্য হতে পারে পর্যটন। এ খাতের সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য এনে দিতে পারে সোনালি অধ্যায়।

এ মন্তব্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হেড অব মার্কেটিং ও ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (এনএইচটিটআই) অধ্যক্ষ পারভেজ আহমেদ চৌধুরীর। রাজধানীর মহাখালী পর্যটন করপোরেশনের হোটেল অবকাশে নিজ অফিসে পারভেজ আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

তবে রয়েছে কিছু সমস্যাও। তিনি বলেন, শত কোটি ট্যুরিস্ট শত কোটি সম্ভাবনা। একজন ট্যুরিস্ট দেশে এলে এর সঙ্গে ৩০ জন লোকের কাজ বের হয়। তাই এ খাতে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করতে আমাদের প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব রয়েছে। আমরা এখনো সঠিক ‘সেগমেন্টে’ দেশের বিবরণ তুলে ধরতে পারিনি।

আমাদের আগে বুঝতে হবে, কোন দেশটি আমাদের সোর্স কান্ট্রি হতে পারে, কোন দেশ আমাদের এসব সৌন্দর্য দেখতে আগ্রহী এসব বুঝেই কাজ করা দরকার। পারভেজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশের পুরনো স্থাপনাগুলো সংস্কার করতে গিয়ে যেন এর প্রকৃতরূপ বিকৃত না হয় সেদিকটায় খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে আমাদের ট্যুরিস্টদের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

এজন্য অভিজ্ঞ লোকের অভাব বোধ করি আমরা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্বশীল এ ব্যক্তি বলেন, এ খাতে যে সম্ভাবনা ছিল সেটা এর আগে কখনোই আলোচনায় আসেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যটন খাত নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। এর ফলে বেশ কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। আশার আলো দেখাচ্ছে এ খাত।

পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে পারলে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আর থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা রাখা জরুরি, যেন কোনো ট্যুরিস্ট সহজে বিড়ম্বনা ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এখনও সেই অবস্থায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি। তবে অচিরেই হয়ে যাবে।

কয়েকটি স্থানের নাম উল্লেখ করে পারভেজ বলেন, আমাদের বিছানাকান্দি, নিঝুমদ্বীপ, কক্সবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভ্রমণ করতে গেলে ট্যুরিস্টদের মধ্যে একটা শঙ্কা কাজ করে, সেটা ভ্রমণে ক্লান্তি। যেমন বিছানাকান্দি, নিঝুমদ্বীপে এখনো সেভাবে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কক্সবাজারে সড়কপথে গেলে দীর্ঘ সময় লাগে। আর আকাশপথে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা রাখা হয়নি।

এসব ক্ষেত্রকে উন্নত করতে পারলে সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, এসব কথা চিন্তা করেই সরকার ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ চলছে। আমাদের টার্গেট ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ লাখ ট্যুরিস্ট বাংলাদেশ ভিজিট করবে।

সে লক্ষ্যে কাজও চলছে। আমরা ট্যুরিস্টদের জন্য সব ক্ষেত্রে ছাড়ের অফার রেখেছি। বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে পারভেজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আসুন আমাদের দেশ ভ্রমণ করুন। বিশ্বে যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ নিরাপদ ও উপভোগ্য।

This website uses cookies.