শরীয়তপুরে প্রেমিকযুগলকে নির্যাতন

2প্রথম সকাল ডটকম (শরীয়তপুর): শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রেম করে পালিয়ে যাওয়ায় সামাজিব বিচারের নামে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে আইরিন আক্তার এবং স্বপন নামের প্রেমিক যুগল। তাদের দুজনকে এক সঙ্গে বেঁধে জুতা পেটা করেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

আইরিন আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং ঘাটকুল গ্রামের হতদরিদ্র সোনামিয়া ছৈয়ালের মেয়ে। আর স্বপন একই গ্রামের দরিদ্র আসমত আলী খাঁর ছেলে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচরে এ ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনা জানাজানি হয় ২০ ফেব্রুয়ারি। আইরিন-স্বপনের নির্যাতনের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। জানা গেছে, নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী এবং তাদের হুমকির কারণেই এ নিয়ে মামলা করার সাহস পায়নি দরিদ্র আইরিন এবং স্বপনের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে স্বপন ও আইরিন। বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত ৯ তারিখে তাদের আটক করে স্থানীয়রা। এরপর তাদের ধরে কুন্ডেরচর আবদুল মান্নান মল্লিককান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ও সুলতান মল্লিক। তাদের নেতৃত্বেই স্বপন ও আইরিনকে চরম নির্যাতন করা হয়।

তাদেরকে এক রশিতে বেঁধে জুতা পেটা করে জুতার মালা পরিয়ে স্কুল মাঠে ঘোরানো হয়। আইরিন ওই স্কুলেরই ছাত্রী। জুতার পেটন খেয়েও মুক্তি মেলেনি তাদের। আইরিন এবং স্বপনকে রাতে স্কুলের একটি ভবনে আটকে রেখেও ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইরিন এবং স্বপনকে নির্যাতনের খবর পেয়ে পরের দিন স্কুল মাঠে ছুটে আসেন তাদের পরিবার। মারাত্মক আহত স্বপন ও আইরিনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

গত ১৩ দিনেও সুস্থ হয়ে ওঠেনি আইরিন এবং স্বপন। আইরিনের বাবা সোনামিয়া ছৈয়াল জানিয়েছেন, মামলা করলে প্রভাবশালীরা তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এদিকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কুন্ডেরচর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের বক্তব্য ভিন্ন। মেম্বার এ ঘটনাকে সামাজিক বিচার বললেও এ ঘটনাকে অমানবিক বলেছেন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বেপারী এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *