জিকা ভাইরাসের লক্ষন ও নিরাময়

8 (7)

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: জিকা ভাইরাসের ভয়ে অনেক নারীই সন্তান নিচ্ছেন না! শুধু মায়েরা নন, অনেক দেশের সরকারও ভয়ে আছে, কখন কী হয়! তাই লাতিন আমেরিকার একটি দেশে তো সরকারিভাবে গর্ভধারণে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

ব্রাজিলে এরইমধ্যে জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে নেমে গিয়েছে সেনাবাহিনী। এই ভাইরাসের কারণে সবারই কিছু না কিছু ক্ষতি হলেও সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হয় গর্ভস্থ শিশুর। এই রোগে গর্ভস্থ শিশুর ‘মাইক্রোসেফালি’ রোগ হয় বলে এ দেশের অনেক গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

আসলে মাইক্রোসেফালি কিন্তু কোনো রোগ নয়। মাথা ছোট হওয়াকেই মাইক্রোসেফালি বলে। যেমন: মোবাইলের ছোট সিমকে মাইক্রোসিম বলে, তেমনি ছোট মাথাকে বলে মাইক্রোসেফালি। ‘মাইক্রো’ মানে ছোট আর ব্রেইন বা মগজ হলো ‘সেফালন’।

এ থেকে এসেছে সেফালি। তবে মাথা যদি ছোট হয়, মগজ তো বাড়বে না। আর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশও হবে না। তাই মাইক্রোসেফালি হলে বাচ্চাদের বসতে বা হাঁটতে অনেক বছর লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া কথা বলা, কানে শোনা, চোখে দেখাসহ বুদ্ধির ঘাটতি হবে। যাকে ডাক্তারি ভাষায় সেরিব্রাল পালসি বা সিপি আর সাধারণ মানুষ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে। এ ছাড়া বড়দের শরীর অবশ হয়ে যাওয়া বা জিবিএস রোগ হতে পারে।

নামকরণের ইতিহাস:- ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা অরণ্যে এটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল বলে এই ভাইরাসের নাম জিকা ভাইরাস।

কীভাবে এ রোগ হয়:- আক্রান্ত এলাকা ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ইত্যাদি এলাকায় ভ্রমণ করলে এ রোগ হতে পারে। এডিস মশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।

রোগের লক্ষণ:- যাঁরা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণ করেছেন, তাঁদের যদি জ্বরের সঙ্গে নিচের যেকোনো দুটি লক্ষণ দেখা দেয় তবে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। ১. শরীরে লালচে দানা বা র‌্যাশ। ২. গিরা, হাড্ডিতে ব্যথা। ৩. চোখ দিয়ে পানি পড়া বা কনজাইটিভাইটিস। মায়ের পেটে আলট্রাসনোগ্রাম করে যদি দেখা যায় যে বাচ্চার মাথা ছোট কিংবা কেলসিফিকেশন বা কালো দাগ, তবে মায়েদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে এই রোগ হয়েছে কি না।

শতকরা ৮০ ভাগ মানুষেরই এই জীবাণু আক্রমণ করার পরও কোনো ক্ষতি হয় না এবং লক্ষণও প্রকাশ পায় না। আর যে ২০ ভাগের এই রোগ হয়, তাদেরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যেই কোনো জটিলতা ছাড়া ভালো হয়ে যায়। গর্ভবতী নারীর নিজেরও তেমন ক্ষতি হয় না। তবে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হয় এবং এটাই ভয়ের কারণ।

রোগের চিকিৎসা:- এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা লাগেও না। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং বেশি করে পানি ও তরল খেতে হবে। বাচ্চা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেলে তারও চিকিৎসা নেই। সে ক্ষেত্রে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। যেমন : খিঁচুনি হলে তার চিকিৎসা নেওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, কানে শোনা ও চোখে দেখার জন্য উদ্দীপনা দেওয়া, সাইকোথেরাপি, অকুপেশনালথেরাপি ইত্যাদি।

প্রতিরোধ আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণ করলে দিনের বেলায় ফুলহাতা শার্ট পরা উচিত। গায়ে মশারোধী ক্রিম মাখতে পারেন। এই মশা যেহেতু দিনে কামড়ায়, তাই দিনে ঘুমালেও মশারি টাঙানো উচিত। মশারোধী কেমিক্যালযুক্ত মশারি টাঙালে সবচেয়ে ভালো হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির ভেতর আলাদা রাখতে হবে।

এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, টব, টায়ার, ফুলদানি ইত্যাদিতে যেন পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অর্থাৎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা করা হয়, তাই করতে হবে। কিন্তু এখন এসব কাজ করবেন শুধু আক্রান্ত এলাকার লোকজন। আমাদের দেশে সাধারণত এই সময় এডিস মশা ছড়ায় না। আমাদের করণীয় হলো ওই সব দেশ ভ্রমণে সতর্ক থাকা। আর গর্ভবতী নারী বা যাঁরা কিছুদিনের মধ্যে গর্ভধারণ করতে চান, তাঁদের ওই সব দেশে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *