হায়রে রাজধানী হায়রে আমার দেশ…

00

মোমিন মেহেদী:

এমন দেশে থাকি আমরা

এমন দেশে চলি

এদেশ নিয়ে নিত্য সময়

কষ্ট কথা বলি

তার মধ্যে রাজধানী এক

হাজার হাজার গলি

উন্নয়নের ফাঁদে ফেলে

দিচ্ছে মানুষ বলি

বন্ধ করো ভন্ডামী আর মানুষ মারার কল

তা না হলে সত্য কথা বলবো অনর্গল

আমজনতা আছে সাথে ভয় করি না গুমের

খোলা আমার মাথার খুলি ছিটকিনিটা রুমের…

৩৫ বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশংকায় আমাদের সরকার তটস্থ হয়ে উঠেছে। অথচ এই সরকারেরই প্রধান সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কার পেয়েছেন। বিভিন্ন  রকম সমস্যায় আমরা জড়িয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষমতার রাজনীতি; ক্ষমতার সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজী কর্মকান্ড।

এর সাথে সাথে আবার আছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ। যা মোকাবেলায় রাজধানী ঢাকায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তা না হলে জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সমস্যায় আগামী ৩৫ বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হবে। এ অবস্থায় তীব্র বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় স্মার্ট পলিসি গ্রহণ করা প্রয়োজন হলেও তা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ সরকার। কেননা, যতই সরকাওে পক্ষ থেকে বলা হোক না কেন উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দেশ; বাস্তবতা হলো এই  যে জাতির সামনে মূলো ঝুলিয়ে ‘ডিজিটাল ডিজিটাল’ বলে চিল্লালেও আমরা মূলত থেকে গেছি সেই এনালগ যুগে।

যে যুগে চিঠি যেতে সময় লাগতো প্রায় ৭ দিন; এখানো ডাকযোগে চিঠি দিতে লাগছে ৭ দিন। অর্থাৎ মান্ধাতা আমলের সেই অন্ধকার এখানো পিছে লেগে আছে ফেউ-এর মত। যে কারনে নতুন নতুন সমস্যার জালে আবদ্ধ হতে হতে জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য থেকে জেনেছি যে, রাজধানী ঢাকায় অব্যাহত বন্যা ও জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জীবন ও জীবিকাকে ব্যাহত করছে। সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে রাজধানীকে ঘিরে থাকা নদী বা খাল পাড় এলাকা ও বস্তিবাসীর ওপর। আগামী দশকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আরও ঘন ও তীব্র বৃষ্টিপাতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হার বাড়ার আশংকা রয়েছে।

এমন একটা সমস্যায় আমরা যখন কূপোকাত; তখন বিশ্বব্যাংক বলছে, যদি জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাদ দিয়ে হিসাব করা হয় তবে ২০৫০ সাল নাগাদ অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ১১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হবে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির আশংকাসহ হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি সমস্যার রাত নির্মাণ করতে করতে যে সময় এগিয়ে আসছে; সে সময় আমাদেরকে বলছে যে, বৃষ্টিপাতের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা কমাতে নিষ্কাশন পাম্পের জন্য ২৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

এছাড়া নিষ্কাশন পাইপ ক্লিয়ারিং স্থাপন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ধারণাপত্র ও অন্যান্য ব্যবস্থা উন্নয়নে বিনিয়োগের হার আরও বাড়াতে হবে। ২০৫০ নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় ক্রমবর্ধমান হারে আরও ১৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন অংশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ইতিমধ্যে অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধাদি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র দশমিক ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে আমাদের রাজধানীতে। এমতবস্থায় ঢাকার মতো একটি মেগাসিটিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন।

বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাঘব বোয়াল হিসেবে ব্যাপক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-এমপি ও সচিবদেরকে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পক্ষের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্মের প্রতিটি নাগরিককে সবসময় অধিকার রক্ষার জন্য নিবেদিতথেকে এগিয়ে আসতে হবে।  সাথে সাথে সবাইকে মনেও রাখতে হবে যে, জলাবদ্ধতার রাজধানী থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকগণ যদি জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে; তাহলে যেন সবাই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশর রাজধানীকে বাঁচাতে রাজপথে নামার মানষিকতা রাখে।  তা না হলে এতে যে ক্ষতির কথা আশংকা করা হচ্ছে তা থেকে হয়তো রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে না।

আরো একটি বিষয় হলো সরকারী দল আওয়ামী লীগ-জাসদ-ওয়ার্কার্স পার্টিসহ মহাজোট ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দ্বারা খাল ও নদী দখল হয়ে যাওয়া। দেখা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি খাল শুরুতে ২০০ ফুট হলেও অনেক স্থানে তা ৫০ ফুট হয়ে গেছে। প্রভাবশালী রাজনীতিকরা এ দখলের সঙ্গে জড়িত থাকায় উদ্ধার করা কঠিন হয়ে উঠলেও পদক্ষেপ নিয়ে উদ্ধার করলে আরো উত্তরণ ঘটবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টার। তাছাড়া আমি মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে প্রকট সমন্বয়হীনতা রয়েছে; তা থেকে উত্তরণ ঘটানোটা এখন খুবই জরুরী। কেননা, এই সমন্বয়হীনতার কারণে একজন আরেকজনের ওপর দায় চাপিয়ে মুক্ত হয়ে গেলেও নাগরিক ভোগান্তি কমছে না।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের জন্য আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ দায়ী না থাকলেও ভুগতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন কাইমস কি বলেছেন, কি বলে বিবৃতি দিয়েছেন, তা নিয়ে না ভেবে বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্মের একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানীকে বাঁচানোর সাথে সাথে সচেতনতার সাথে  জনসংখ্যা ও নগরায়ণের দ্রুত বর্ধনশীল বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলকে রক্ষার জন্য জলবায়ু প্রভাবজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। একই সাথে বলতে চাই যে, জনগনের রাজনীতি যারা করে; তারা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে না; তারা কাজের চেয়ে কথাও বেশি বলে না; তারা থাকে সবসময় অনবদ্য নিবেদিত দেশ মাটি ও মানুষের জন্য।

যারা সত্যিকারের দেশ প্রেমিক তারা ক্ষমতায় নেই; যারা ক্ষমতায় আছে, তারা আমাদের দেশের মানুষ নয়; দেশ নয়; প্রথম এবং শেষ ভাবনা হিসেবে বেছে নিয়েছে উন্নয়নের ফাঁদ। যেমন- তারা বলছে ফ্লাইওয়াভার হচ্ছে-ব্রিজ হচ্ছে-কালভার্ট হচ্ছে-মেট্টোরেল হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এরা ক্রমশ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ধনবান করে দিচ্ছে; আর দেশকে করে দিচ্ছে নি:শ্ব। হয়তো একারনেই কোথাও প্রকৃত উন্নয়ন নেই। আছে কেবল লোক দেখানো উন্নয়নের ফাঁদ। এই ফাঁদে পরে বিশ্বব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃত উন্নয়ন তো তাকে বলে; যার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ শান্তি পায়; আরে একের পর এক ফ্লাইওভার বানানো হচ্ছে ঠিকই; তবে তা তাদের জন্য; যাদের গাড়ি আছে-বাড়ি আছে এবং পকেটে টাকা আছে। যে উন্নয়ন মানুষের জন্য নিবেদিত; সে উন্নয়নের ধারে-কাছেও নেই বর্তমান সরকার। যে কারনে জলবায়ু হুমকির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমরা; আমাদের রাজধানী; আমাদের মানচিত্র। এই বর্তমানের রাজনৈতিক উন্নয়নের ফাঁদ থেকে মুক্তি আনতে সরকারের ভ’মিকা সবার আগে প্রয়োজন; আর তাই সরকারের বোধদয় হোক, দখলমুক্ত হোক খাল-ড্রেন-রাস্তা এই প্রত্যাশা আমাদের-সকলের। লেখক:- চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি (প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার জন্য প্রথম সকাল ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।)

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *