নাট্যগ্রন্থ: “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” মুখবন্ধে নাট্যব্যক্তিত্ব জামালউদ্দীন হোসেন বলেন

প্রথম সকাল ডটকম (নিউইয়র্ক): বাংলাদেশ ও কলকাতার আসন্ন বইমেলা উপলক্ষে নিউইয়র্ক প্রবাসী নাট্যকার খান শওকত রচিত ঐতিহাসিক মঞ্চ নাটক:-“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” গ্রন্থখানা ঢাকার শিখা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

এই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিশিষ্ট লোকদের গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব জামালউদ্দীন হোসেন এ গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন:- জনাব খান শওকত দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নাট্যশিল্পের সঙ্গে জড়িত।

তিনি একজন নাট্যকার, অভিনেতা এবং নাট্য নির্দেশক। গত ২৫ বছরের প্রবাস জীবনে তিনি নিউ ইয়র্কে বসে বেশ কয়েকটি নাটক রচনা করেছেন, পরিচালনা করেছেন এবং অভিনয়ও করেছেন। মঞ্চ নাটক ‘‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” তাঁর দীর্ঘ ২১ বছরের (১৯৯৪ থেকে ২০১৫) গবেষণার ফসল। মুলত: বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রেক্ষাপট এবং ২৫ মার্চের কালরাত্রি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা ও তার পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে এই নাটক রচিত হয়েছে। এই নাটকের সীমিত পরিসরে প্রচুর ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, যা অত্যন্ত চমকপ্রদ।

নাটক ইতিহাস নয়। নাটক সাহিত্য। ইতিহাস আশ্রিত নাটকেও তাই প্রচুর কল্পনা ও আবেগের সংমিশ্রন থাকে। এই নাটকেও তাই ঘটেছে। তবে সেই কল্পনা ও আবেগ নাটকের ঐতিহাসিক মুল্যকে কোনক্রমেই ক্ষুন্ন করেনি। রবং নাট্যরসকে আরো ঘনিভূত করেছে। আমি আশা করি নাট্য সাহিত্যের পাঠক ও বঙ্গবন্ধুর অনুসারি নাট্যশিল্পীদের কাছে এ নাটক যথেষ্ট সমাদৃত হবে। জামালউদ্দিন হোসেন, অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক ও সংস্কৃতিক কর্মী। (১২ নভেম্বর ২০১৫, নিউ ইয়র্ক)। বাংলা সাহিত্যে প্রায় সকল বিষয় নিয়ে প্রচুর নাট্যগ্রন্থ রয়েছে।

কিন্তু  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তথ্যভিত্তিক নাট্যগ্রন্থ একেবারেই অপ্রতুল। মঞ্চে পারফরমেন্সের মাধ্যমে কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীদের মনের ভেতর দ্রুত একটি ধারনা দৃঢ়ভাবে স্থান করে নিতে মঞ্চ নাটক অত্যন্ত উপযোগী একটি মাধ্যম। এজন্যে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদাতা হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে এ গ্রন্থ’টি রচনা করেছেন খান শওকত।

এগ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ’৭১ উত্তর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছাড়াও তুলে ধরা হয়েছে:- ১৯৭১ এর ২৬ শে মার্চ কে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন তার ৫০ টি আন্তর্জাতিক প্রমাণ, ১৯৭১-এর ২৫ শে মার্চে বিশ্বসেরা গণহত্যা বিষয়ে সি.আই.এ-র গোপন রিপোর্ট, ১৯৭১ এর ৪ঠা সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সরকারের আদেশ (নং-১৭-১৯৭১) বলে পাক-সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে রাজাকার আলবদর এবং আল শামস বাহিনীতে নিয়োগ প্রসঙ্গ, ১৯৭১ এর ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার ও স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র প্রসঙ্গ, জাসদের গণবাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগের ১০ সাংসদ এবং ১,৮৯৬ জন নেতা-কর্মী হত্যার প্রসঙ্গ, ১৯৭২ এর ৪ ঠা নভেম্বরে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে রেডক্রসের জরীপে মুক্তিযুদ্ধকালীন এদেশের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রসঙ্গ, সিমলা চুক্তি (১৯৭২) এবং ত্রিদেশীয় চুক্তি (১৯৭৪) মোতাবেক ঃ পরাজিত ৯৩,০০০ পাক-সেনার মুক্তির বিনিময়ে পাকিস্তানে আটক ৭০,০০০ বাঙ্গালী সেনা-সহ মোট ৪ লক্ষ বাঙ্গালীর মুক্তি প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক ৪৪ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর নাগরিকত্ব বাতিল প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে যুদ্ধাপরাধী তালিকা থেকে ১৯৫ জন পাকিস্তানীর নাম প্রত্যাহার প্রসঙ্গ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭২ সালের বিশেষ অধ্যাদেশ (নং-৮, ১৯৭২) জারি এবং ১৯৭৩ সালের দালাল আইন (নং-১৯, ১৯৭৩) প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বেনিফিসিয়ারীদের ভুমিকা প্রসঙ্গ, ১৯৭২ সালে “জাতীয় রক্ষী বাহিনী” ও ১৯৭৫ সালে “বাকশাল” গঠনের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ৯ ঘন্টা পর বংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল কোন দেশ এবং কেন?

১৯৭৫ এর ২৪ আগষ্টে খন্দকার মোশতাক কাকে সেনা প্রধান করেন এবং কেন? ১৯৭৫ এর ২৬ সেপ্টেম্বর এ ঘোষিত সেই কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিল প্রসঙ্গ, ১৯৭৫ এর ৩রা নভেম্বরে জেলখানার অভ্যšতরে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার প্রসঙ্গ, খন্দকার মোশতাক কার অনুরোধে এবং কেন এই হত্যাকান্ডে জড়ালেন, মেজর নূর কার বুকে গুলি করে এবং কেন, বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহে কতটি বুলেটের চিহ্ন ছিল, তাকে ঢাকায় দাফন না করার আসল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গ, ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট-এর নারকীয় হত্যাকান্ডের দৃশ্য, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ এর ২৯ ডিসেম্বরে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৬ এর ডিসেম্বরে পাবলিক সার্ভিস অর্ডিন্যান্স (নং-০৩, ১৯৭৬) জারি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রসঙ্গ, সংবিধানের ১২২ নং অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গ, সংবিধানের ৮নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ধর্ম-নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও বাঙালী জাতীয়তাবাদ তুলে দেয়া এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ, বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলা-বিচার-রায় ১২ খুনীর তালিকা ও তাদের স্থায়ী ঠিকানা, বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধু উত্তর বাংলাদেশ, ২০১৫ সাল পর্যšত বাংলাদেশের ১৪ প্রধানমন্ত্রী ও ২০ রাষ্ট্রপতির নাম, মেয়াদকাল এবং অনেক অজানা তথ্য।

এসব বিষয়াদি আজকের প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য জানা খুবই জরুরী। ইতিপূর্বে এ পান্ডুলিপির কপি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়। শ্রমিক লীগের অনুষ্ঠানে (৯-২৮-২০১৫ তারিখে) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনির কাছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক ড: আব্দুল সোবহান গোলাপ এর হাতে (১০-১২-২০১৫তারিখে) এবং ডাকযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে প্রেরন করা হয়েছে।

এ গ্রন্থখানা প্রকাশের পর পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের সকল জেলা ও উপজেলা কমিটি, দেশের সকল নাট্য সংগঠন, প্রত্যেক ডি.সি, প্রত্যেক ইউ.এন.ও, দেশের প্রত্যেক মহাবিদ্যালয়, প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেক প্রেস-ক্লাব, প্রতিটি এন.জি.ও, এবং শিল্পকলা একাডেমীর প্রতিটি শাখার কাছেও ডাকযোগে প্রেরন করা হবে। দেশে বা প্রবাসে খুব সহজেই মঞ্চায়নযোগ্য এমন একটি নাট্যগ্রন্থ’ “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব”। এ গ্রন্থটির বিষয়ে খান শওকত এর সঙ্গে (৯১৭) ৮৩৪-৮৫৬৬ নং এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

This website uses cookies.